ছয় বছরের বেশি সময় পর সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু সিগারেটই নয়, তরুণদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর চাপানো হয়েছে রীতিমতো জরিমানার মতো শুল্ক। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর এই প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, একদিকে রাজস্ব আদায়, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা- এই দুই লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েই তামাক ও তামাকজাত পণ্যের নতুন কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মানে, যত বেশি মানুষ সিগারেট ছাড়বেন, তত ভালো থাকবেন। আর যাঁরা ছাড়বেন না, তাঁদের পকেটে একটু বেশি চাপ পড়বে।
নিচের স্তর থেকে শুরু করে সবচেয়ে দামি সিগারেট পর্যন্ত সবার দামই বাড়ছে। নিচের স্তরের সিগারেট, যেটা এখন ১০ শলাকায় ৬০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটার দাম বাড়ছে মাত্র ২ টাকা।
মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে ৮০ টাকা থেকে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৯২ টাকায়। মানে ১২ টাকা বেশি। উচ্চস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে আরও বেশি। এখন যেটা ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, সেটা কিনতে হবে ১৬০ টাকায়।
আর সবচেয়ে দামি, প্রিমিয়াম সিগারেটের বর্তমান মূল্য ১৮৫ টাকা। বাজেট অনুমোদন পেলে সেটা দাঁড়াবে ২১০ টাকায়। এক প্যাকেট সিগারেটের জন্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে ২৫ টাকা।
তথ্য বলছে, সিগারেটের দাম গত ২০১৭ সালের পরে বাড়েনি। সেই হিসেবে প্রায় ছয় বছর পর দাম বাড়ল। জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এটা জরুরি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর চেয়েও বড় চমক নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে। বাজেটে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানে যারা সিগারেটের বদলে আধুনিক নিকোটিন পণ্যে আসক্ত, তাদের জন্য এ যেন এক কড়া বার্তা। এই পণ্যের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তরুণরা সহজে কিনতে পারবেন না।
ধূমপান রোধে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দাম বাড়লে সিগারেটের ব্যবহার কমে। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশি সিগারেট ছাড়তে বাধ্য হবেন। তবে তামাক কোম্পানিগুলো বলছে, দাম বাড়লে চোরাচালান বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমতে পারে।
এসব বিতর্কের মাঝেও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ধূমপানের মাত্রা কমানোই বড় লক্ষ্য। বাজেট বাস্তবায়িত হলে, আগামী অর্থবছর থেকে সিগারেট ও নিকোটিন পণ্যের দাম বাড়তি চাপ টের পাবেন ক্রেতারা। আর তাতে কমতে পারে নিকোটিনের নেশা, বাড়তে পারে সুস্থ মানুষের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
ছয় বছরের বেশি সময় পর সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু সিগারেটই নয়, তরুণদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর চাপানো হয়েছে রীতিমতো জরিমানার মতো শুল্ক। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর এই প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, একদিকে রাজস্ব আদায়, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা- এই দুই লক্ষ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েই তামাক ও তামাকজাত পণ্যের নতুন কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মানে, যত বেশি মানুষ সিগারেট ছাড়বেন, তত ভালো থাকবেন। আর যাঁরা ছাড়বেন না, তাঁদের পকেটে একটু বেশি চাপ পড়বে।
নিচের স্তর থেকে শুরু করে সবচেয়ে দামি সিগারেট পর্যন্ত সবার দামই বাড়ছে। নিচের স্তরের সিগারেট, যেটা এখন ১০ শলাকায় ৬০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটার দাম বাড়ছে মাত্র ২ টাকা।
মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে ৮০ টাকা থেকে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৯২ টাকায়। মানে ১২ টাকা বেশি। উচ্চস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ছে আরও বেশি। এখন যেটা ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, সেটা কিনতে হবে ১৬০ টাকায়।
আর সবচেয়ে দামি, প্রিমিয়াম সিগারেটের বর্তমান মূল্য ১৮৫ টাকা। বাজেট অনুমোদন পেলে সেটা দাঁড়াবে ২১০ টাকায়। এক প্যাকেট সিগারেটের জন্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে ২৫ টাকা।
তথ্য বলছে, সিগারেটের দাম গত ২০১৭ সালের পরে বাড়েনি। সেই হিসেবে প্রায় ছয় বছর পর দাম বাড়ল। জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এটা জরুরি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর চেয়েও বড় চমক নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে। বাজেটে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানে যারা সিগারেটের বদলে আধুনিক নিকোটিন পণ্যে আসক্ত, তাদের জন্য এ যেন এক কড়া বার্তা। এই পণ্যের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তরুণরা সহজে কিনতে পারবেন না।
ধূমপান রোধে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দাম বাড়লে সিগারেটের ব্যবহার কমে। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশি সিগারেট ছাড়তে বাধ্য হবেন। তবে তামাক কোম্পানিগুলো বলছে, দাম বাড়লে চোরাচালান বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমতে পারে।
এসব বিতর্কের মাঝেও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ধূমপানের মাত্রা কমানোই বড় লক্ষ্য। বাজেট বাস্তবায়িত হলে, আগামী অর্থবছর থেকে সিগারেট ও নিকোটিন পণ্যের দাম বাড়তি চাপ টের পাবেন ক্রেতারা। আর তাতে কমতে পারে নিকোটিনের নেশা, বাড়তে পারে সুস্থ মানুষের সংখ্যা।

আপনার মতামত লিখুন