সংবাদ

সব করদাতার স্বস্তি: বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

সব করদাতার স্বস্তি: বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা
প্রতীকী ছবি।

অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এল সরকার। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। সেখানেই তিনি এই ঘোষণা দেন।

কেবল আগামী বছরই নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এই করমুক্ত আয়সীমা একই থাকবে। অর্থাৎ আগামী দুই বছর করদাতারা এই সুবিধা পাবেন।

সাধারণ করদাতাদের চেয়ে বিশেষ কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য বাড়তি ছাড় রেখেছে সরকার। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর পেরিয়েছেন এমন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা রাখা হয়েছে সোয়া চার লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সীমা আরও বেশি—পাঁচ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা। তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ টাকা।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকরা প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর সুবিধা পাবেন।

এবার আয়করের হারেও বদল এনেছে সরকার। আগের নিয়মে করমুক্ত সীমার পরের প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান ছিল। এবার সেই ৫ শতাংশ কর সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পৌনে চার লাখ টাকার ওপর কোনো কর দিতে হবে না। এরপর প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। তারপরের চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, তার পরের পাঁচ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, তার পরের ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

অর্থাৎ যাঁদের আয় বেশি, তাদের করের হার আগের মতোই থাকছে। তবে মধ্য আয়ের করদাতাদের জন্য করের কাঠামো কিছুটা সহজ করেছে সরকার।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো, করদাতারা এখন সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে কখন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনি ছাড় পাবেন, নাকি জরিমানা দিতে হবে।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে- অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আপনার পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। তবে এই ছাড় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে- অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো ছাড় থাকবে না, আবার কোনো জরিমানাও দিতে হবে না।

তৃতীয় প্রান্তিকে- জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আপনাকে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেটি জরিমানা দিতে হবে।

চতুর্থ প্রান্তিকে- এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা দিতে হবে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেটি।

দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে প্রতি বছর রিটার্ন দেন মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ মানুষ।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছিল। এর পর থেকে আর এই সীমা বাড়েনি। কিন্তু গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে গড়ে ১০ শতাংশ হারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন এই ঘোষণায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


সব করদাতার স্বস্তি: বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এল সরকার। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। সেখানেই তিনি এই ঘোষণা দেন।

কেবল আগামী বছরই নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এই করমুক্ত আয়সীমা একই থাকবে। অর্থাৎ আগামী দুই বছর করদাতারা এই সুবিধা পাবেন।

সাধারণ করদাতাদের চেয়ে বিশেষ কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য বাড়তি ছাড় রেখেছে সরকার। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর পেরিয়েছেন এমন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা রাখা হয়েছে সোয়া চার লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সীমা আরও বেশি—পাঁচ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা। তাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ টাকা।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকরা প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর সুবিধা পাবেন।

এবার আয়করের হারেও বদল এনেছে সরকার। আগের নিয়মে করমুক্ত সীমার পরের প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান ছিল। এবার সেই ৫ শতাংশ কর সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পৌনে চার লাখ টাকার ওপর কোনো কর দিতে হবে না। এরপর প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। তারপরের চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, তার পরের পাঁচ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, তার পরের ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

অর্থাৎ যাঁদের আয় বেশি, তাদের করের হার আগের মতোই থাকছে। তবে মধ্য আয়ের করদাতাদের জন্য করের কাঠামো কিছুটা সহজ করেছে সরকার।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো, করদাতারা এখন সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে কখন রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনি ছাড় পাবেন, নাকি জরিমানা দিতে হবে।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে- অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আপনার পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। তবে এই ছাড় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে- অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো ছাড় থাকবে না, আবার কোনো জরিমানাও দিতে হবে না।

তৃতীয় প্রান্তিকে- জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আপনাকে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেটি জরিমানা দিতে হবে।

চতুর্থ প্রান্তিকে- এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা দিতে হবে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেটি।

দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে প্রতি বছর রিটার্ন দেন মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ মানুষ।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছিল। এর পর থেকে আর এই সীমা বাড়েনি। কিন্তু গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে গড়ে ১০ শতাংশ হারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন এই ঘোষণায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত