একসময় মাছের ঘেরের ভেড়ির পাশে একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর ছিল মৌলুদা খাতুন ও তার স্বামী গোলাম মোস্তফার ঠিকানা। বর্ষায় মাথার ওপর চুঁইয়ে পড়ত বৃষ্টির পানি, শীতে হাড়কাঁপানো কষ্ট আর ঝড়ে থাকত ঘর ভেঙে পড়ার আতঙ্ক। তাদের কাছে একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন ছিল বিলাসিতার মতো। তবে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মানবতার দুই বন্ধু ইতালীয় নাগরিক ভিনসেনজো ফালকোনে এনজো ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরা।
এই দম্পতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের আর্তনাদ শুনে ইতালি থেকে ছুটে এসেছিলেন। এরপর গত কয়েক দশক ধরে তারা ঋশিল্পীর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পারকুখরালি গ্রামের মৌলুদা খাতুনের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন তারা। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই পরিবারের জন্য জমি ক্রয় করে নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি।
প্রায় ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িতে রয়েছে তিনটি প্রশস্ত শোবার ঘর, একটি আলাদা রিডিং রুম, ড্রয়িং ও ডাইনিং রুম, আধুনিক বাথরুম এবং বড় রান্নাঘর। শিশুদের পড়াশোনা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখেই বাড়ির নকশা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৌলুদা খাতুনের পরিবারের কাছে বাড়ির চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। এনজো ও লাওরার অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে চাবি হস্তান্তর করেন সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মৌলুদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি ছিল না, মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। আজ মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন পেলাম। এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ, কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. নাঈমুজ্জামান এবং হিসাবরক্ষক মীর মাহমুদুর রহমান।
সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, এনজো ও লাওরা প্রচারের আড়ালে থেকে আজীবন মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। মৌলুদা খাতুনের হাসিমুখই তাদের কাজের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।
ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ জানান, এটি শুধু ঘর দান নয়, বরং একটি পরিবারের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
/

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
একসময় মাছের ঘেরের ভেড়ির পাশে একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর ছিল মৌলুদা খাতুন ও তার স্বামী গোলাম মোস্তফার ঠিকানা। বর্ষায় মাথার ওপর চুঁইয়ে পড়ত বৃষ্টির পানি, শীতে হাড়কাঁপানো কষ্ট আর ঝড়ে থাকত ঘর ভেঙে পড়ার আতঙ্ক। তাদের কাছে একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন ছিল বিলাসিতার মতো। তবে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মানবতার দুই বন্ধু ইতালীয় নাগরিক ভিনসেনজো ফালকোনে এনজো ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরা।
এই দম্পতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের আর্তনাদ শুনে ইতালি থেকে ছুটে এসেছিলেন। এরপর গত কয়েক দশক ধরে তারা ঋশিল্পীর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পারকুখরালি গ্রামের মৌলুদা খাতুনের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন তারা। বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই পরিবারের জন্য জমি ক্রয় করে নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি।
প্রায় ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িতে রয়েছে তিনটি প্রশস্ত শোবার ঘর, একটি আলাদা রিডিং রুম, ড্রয়িং ও ডাইনিং রুম, আধুনিক বাথরুম এবং বড় রান্নাঘর। শিশুদের পড়াশোনা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখেই বাড়ির নকশা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৌলুদা খাতুনের পরিবারের কাছে বাড়ির চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। এনজো ও লাওরার অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে চাবি হস্তান্তর করেন সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মৌলুদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি ছিল না, মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। আজ মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন পেলাম। এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ, কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. নাঈমুজ্জামান এবং হিসাবরক্ষক মীর মাহমুদুর রহমান।
সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, এনজো ও লাওরা প্রচারের আড়ালে থেকে আজীবন মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। মৌলুদা খাতুনের হাসিমুখই তাদের কাজের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।
ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ জানান, এটি শুধু ঘর দান নয়, বরং একটি পরিবারের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
/

আপনার মতামত লিখুন