এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে নাকি নাই তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু অর্থ বিলে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাসহ অর্থনীতিবিদরা।
এবার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘একটি বিষয় বুঝতে ‘ভুল’ হচ্ছে। আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন। সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ রেখেছিলাম, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার উপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এখন না, আমরা গতবারই করেছি। কিন্তু সেটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হল ৩ কোটি টাকায়। আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চার্জ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার উপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়। তাদেরকে আশ্বস্ত করার জন্য আমরা এই সুযোগটা রাখছি। এটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়।’
এই বিষয়ে পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জমির সরকারি দামের সামঞ্জস্য না থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি যেহেতু আমরা সময় পাই নাই, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি। মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার উপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি যাতে করে ওই কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’
আর এই বিষয়ে অর্থবিলে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ‘স্বপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর ‘উৎস’ এবং ইহার বিপরীতে ‘পরিশোধিত করের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না। কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের উপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন।’
অর্থাৎ এখানে, জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট ইত্যাদি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শনের বিষয়টি আলোচনা আসছে। অন্য ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে নাকি নাই তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু অর্থ বিলে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাসহ অর্থনীতিবিদরা।
এবার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘একটি বিষয় বুঝতে ‘ভুল’ হচ্ছে। আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন। সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ রেখেছিলাম, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার উপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এখন না, আমরা গতবারই করেছি। কিন্তু সেটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হল ৩ কোটি টাকায়। আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চার্জ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার উপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়। তাদেরকে আশ্বস্ত করার জন্য আমরা এই সুযোগটা রাখছি। এটা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়।’
এই বিষয়ে পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জমির সরকারি দামের সামঞ্জস্য না থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি যেহেতু আমরা সময় পাই নাই, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি। মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার উপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি যাতে করে ওই কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’
আর এই বিষয়ে অর্থবিলে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ‘স্বপ্রণোদিতভাবে’ প্রদর্শিত নিম্নবর্ণিত বিনিয়োগ বা ক্রয় অথবা প্রাপ্তি এর ‘উৎস’ এবং ইহার বিপরীতে ‘পরিশোধিত করের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না। কোনো করদাতার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ‘ক্রয়ের প্রকৃতমূল্য’ ‘দলিলমূল্য’ অপেক্ষা বেশি হলে, তিনি ওই ‘অপ্রদর্শিত’ অতিরিক্ত ক্রয়মূল্যের উপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ‘নিয়মিত করহারে’ আয়কর পরিশোধ করবেন।’
অর্থাৎ এখানে, জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট ইত্যাদি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শনের বিষয়টি আলোচনা আসছে। অন্য ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন