বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের প্রায় ৯৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মারদিয়া মমতাজ।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে এক সম্পূরক প্রশ্নে বিরোধী দলের (সংরক্ষিত নারী আসন-৪৪) এই এমপি বলেন, “বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তাদের নিরাপত্তা, বেতন বঞ্চনা, চুক্তি লঙ্ঘন ইত্যাদি ছাড়াও প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন।”
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তাদের নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা ইত্যাদির পাশাপাশি তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন এবং সেফ হোমের কোনও ব্যবস্থা করা হবে কিনা- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কাছে জানতে চান এমপি মারদিয়া মমতাজ।
এ সময় সংসদের বৈঠকে স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জবাবে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের যেকোনও অসুবিধা বা অভিযোগ জানাতে বিনামূল্যে যোগাযোগের জন্য ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। এছাড়া এজেন্সিগুলোর বাইরে গিয়ে নারী কর্মীদের সরাসরি বিদেশে পাঠাতে একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ টোল ফ্রি একটি হটলাইন পরিচালনা করা হয়। দেশের বাইরে থেকেও যেকোনও প্রবাসী তাদের যেকোনও সেবা কিংবা অসুবিধার কথা এখানে জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এছাড়া বাইরের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও তাদের সেবা দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “আগে অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ছিল না। এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এমওইউ হচ্ছে। যার ফলে শ্রমিকদের মর্যাদার প্রশ্নে কিংবা সোশ্যাল প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে তারা হয়রানির শিকার হলে সেটির প্রতিকার দাবি করতে পারি।”
সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটো সেফ হোম আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসার সংখ্যা এখন কিছুটা কমেছে। এছাড়া আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের সমন্বয়ে সেখানে সহায়তা দেওয়া হয়।”
নারী কর্মীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার এখন বেশি সতর্ক জানিয়ে নুরুল হক নুরু বলেন, “নারী শ্রমিকরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে কাজের পরিবেশ এবং আইএলও বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী তারা সোশ্যাল প্রোটেকশনগুলো পাবেন কিনা, সেগুলো নিশ্চিত করার পরেই আমরা তাদের পাঠাচ্ছি।”

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের প্রায় ৯৪ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মারদিয়া মমতাজ।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে এক সম্পূরক প্রশ্নে বিরোধী দলের (সংরক্ষিত নারী আসন-৪৪) এই এমপি বলেন, “বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তাদের নিরাপত্তা, বেতন বঞ্চনা, চুক্তি লঙ্ঘন ইত্যাদি ছাড়াও প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন।”
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তাদের নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা ইত্যাদির পাশাপাশি তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন এবং সেফ হোমের কোনও ব্যবস্থা করা হবে কিনা- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কাছে জানতে চান এমপি মারদিয়া মমতাজ।
এ সময় সংসদের বৈঠকে স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জবাবে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের যেকোনও অসুবিধা বা অভিযোগ জানাতে বিনামূল্যে যোগাযোগের জন্য ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। এছাড়া এজেন্সিগুলোর বাইরে গিয়ে নারী কর্মীদের সরাসরি বিদেশে পাঠাতে একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ টোল ফ্রি একটি হটলাইন পরিচালনা করা হয়। দেশের বাইরে থেকেও যেকোনও প্রবাসী তাদের যেকোনও সেবা কিংবা অসুবিধার কথা এখানে জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এছাড়া বাইরের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও তাদের সেবা দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “আগে অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ছিল না। এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এমওইউ হচ্ছে। যার ফলে শ্রমিকদের মর্যাদার প্রশ্নে কিংবা সোশ্যাল প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে তারা হয়রানির শিকার হলে সেটির প্রতিকার দাবি করতে পারি।”
সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটো সেফ হোম আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসার সংখ্যা এখন কিছুটা কমেছে। এছাড়া আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের সমন্বয়ে সেখানে সহায়তা দেওয়া হয়।”
নারী কর্মীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার এখন বেশি সতর্ক জানিয়ে নুরুল হক নুরু বলেন, “নারী শ্রমিকরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে কাজের পরিবেশ এবং আইএলও বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী তারা সোশ্যাল প্রোটেকশনগুলো পাবেন কিনা, সেগুলো নিশ্চিত করার পরেই আমরা তাদের পাঠাচ্ছি।”

আপনার মতামত লিখুন