সংবাদ

সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ও হত্যা বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ২ দিনের কর্মসূচি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ও হত্যা বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ২ দিনের কর্মসূচি

ভারতের সীমান্তে জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’ (অনুপ্রবেশের চেষ্টা) এবং বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এবং ১৫ জুন রাজধানীতে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষায় জনমত গঠন ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ১২ জুন (শুক্রবার) এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের সব সীমান্তবর্তী জেলা এবং সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেবেন। আর ১৫ জুন (সোমবার) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে সীমান্তের ৫০টিরও বেশি স্থানে অন্তত ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬টি সীমান্ত জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে বাড়াবাড়ি করছে।

তিনি আরও তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে ৮৩ জন বাংলাদেশি আটক বা অপহরণের শিকার হয়েছেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘সীমান্তে কাউকে হত্যা করার কোনো আইনগত বিধান নেই। কেউ অপরাধ করলেও তাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। সরাসরি গুলি করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে মন্তব্য করার সময় মনে রাখতে হবে তারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। তাদের বয়ান অনেক সময় ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো হয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শূন্যরেখার কাছে মানবিক সংকটে পড়া মানুষ খাবার ও পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এখানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও সার্বভৌমত্ব জড়িত। পুশ ইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার এবং সীমান্ত এলাকায় জনগণকে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আহমদ আলী কাসেমী (নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিস), আবদুল্লাহ আল মামুন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি), আবদুল মাজেদ আতহারী (সিনিয়র নায়েবে আমির, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি), ইকবাল হোসেন (মহাসচিব, জাগপা), নিজামুল হক (মহাসচিব, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি) প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ও হত্যা বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ২ দিনের কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের সীমান্তে জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’ (অনুপ্রবেশের চেষ্টা) এবং বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এবং ১৫ জুন রাজধানীতে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষায় জনমত গঠন ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ১২ জুন (শুক্রবার) এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের সব সীমান্তবর্তী জেলা এবং সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেবেন। আর ১৫ জুন (সোমবার) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে সীমান্তের ৫০টিরও বেশি স্থানে অন্তত ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬টি সীমান্ত জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে বাড়াবাড়ি করছে।

তিনি আরও তথ্য দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে ৮৩ জন বাংলাদেশি আটক বা অপহরণের শিকার হয়েছেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘সীমান্তে কাউকে হত্যা করার কোনো আইনগত বিধান নেই। কেউ অপরাধ করলেও তাকে আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। সরাসরি গুলি করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে মন্তব্য করার সময় মনে রাখতে হবে তারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। তাদের বয়ান অনেক সময় ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো হয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শূন্যরেখার কাছে মানবিক সংকটে পড়া মানুষ খাবার ও পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এখানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও সার্বভৌমত্ব জড়িত। পুশ ইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার এবং সীমান্ত এলাকায় জনগণকে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আহমদ আলী কাসেমী (নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিস), আবদুল্লাহ আল মামুন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি), আবদুল মাজেদ আতহারী (সিনিয়র নায়েবে আমির, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি), ইকবাল হোসেন (মহাসচিব, জাগপা), নিজামুল হক (মহাসচিব, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি) প্রমুখ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত