ঢাকার পর এবার যশোরের পুলেরহাট এলাকায় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ইমরান (৩৫) নামের ওই রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত ইমরান শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে একের পর এক ইনজেকশন দেন। ইমরানের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ইনজেকশনটি দেওয়ার পরপরই ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।’ পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
তবে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ইমদাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় ইমরানের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। রবিবার অফিস খুললে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাসপাতালে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে একটি টিভি স্টেশনের সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতাল কর্মীরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক না হওয়ায়’ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ঢাকার পর এবার যশোরের পুলেরহাট এলাকায় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ইমরান (৩৫) নামের ওই রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত ইমরান শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে একের পর এক ইনজেকশন দেন। ইমরানের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় ইনজেকশনটি দেওয়ার পরপরই ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।’ পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
তবে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ইমদাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় ইমরানের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। রবিবার অফিস খুললে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাসপাতালে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে একটি টিভি স্টেশনের সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতাল কর্মীরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক না হওয়ায়’ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আপনার মতামত লিখুন