হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একসময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন অনাদর আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার রাস্তার পাশে বা বাড়ির আঙিনায় এখনো সারি সারি খেজুরগাছ দেখা গেলেও এসব ফল পাড়ার লোক মিলছে না। মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর এখন গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে অথবা পরিণত হচ্ছে পাখপাখালির খাবারে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক আগেও চুনারুঘাটে দেশি খেজুরের ব্যাপক কদর ছিল। বাজারে এই ফল বিক্রি হতো। কাঁচা খেজুর পেড়ে লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল গ্রামাঞ্চলে। কিন্তু খাদ্যাভ্যাস ও সময়ের পরিবর্তনে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ফলটি এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার বড়াইল গ্রামের শিক্ষক বাবুল শীল নিজের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ-পানিতে ভিজিয়ে খেজুর পাকানোর ধুম পড়ত। এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না।’
চিকিৎসকেরাও বলছেন, অবহেলিত হলেও এই ফলের পুষ্টিগুণ অনেক। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক সুরঞ্জন রায় বলেন, দেশি খেজুরে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ রয়েছে। যদিও এর আঁটি বড় এবং শাঁস কম, তবুও এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মানুষের উচিত এই ফল খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, দেশি খেজুরগাছ কোনো বিশেষ যত্ন বা কীটনাশক ছাড়াই বেড়ে ওঠে এবং ভালো ফলন দেয়। প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন।
/

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একসময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন অনাদর আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার রাস্তার পাশে বা বাড়ির আঙিনায় এখনো সারি সারি খেজুরগাছ দেখা গেলেও এসব ফল পাড়ার লোক মিলছে না। মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর এখন গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে অথবা পরিণত হচ্ছে পাখপাখালির খাবারে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক আগেও চুনারুঘাটে দেশি খেজুরের ব্যাপক কদর ছিল। বাজারে এই ফল বিক্রি হতো। কাঁচা খেজুর পেড়ে লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল গ্রামাঞ্চলে। কিন্তু খাদ্যাভ্যাস ও সময়ের পরিবর্তনে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ফলটি এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার বড়াইল গ্রামের শিক্ষক বাবুল শীল নিজের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ-পানিতে ভিজিয়ে খেজুর পাকানোর ধুম পড়ত। এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না।’
চিকিৎসকেরাও বলছেন, অবহেলিত হলেও এই ফলের পুষ্টিগুণ অনেক। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক সুরঞ্জন রায় বলেন, দেশি খেজুরে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ রয়েছে। যদিও এর আঁটি বড় এবং শাঁস কম, তবুও এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মানুষের উচিত এই ফল খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, দেশি খেজুরগাছ কোনো বিশেষ যত্ন বা কীটনাশক ছাড়াই বেড়ে ওঠে এবং ভালো ফলন দেয়। প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন।
/

আপনার মতামত লিখুন