প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, ব্যবসাবান্ধব এবং সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণমুখী একটি ‘সৃজনশীল’ ও ‘যুগান্তকারী’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে এই বাজেট বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর পৃথক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনে নিজের চেম্বারে বাজেট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থনীতির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে যে ছাড় ও রেয়াত দেওয়া হয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। এর ফলে ভঙ্গুর অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
বাজেটের কিছু বিশেষ দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বা সৃজনশীল বাজেট। গ্রামীণ ও কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারপ্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার জন্য ১ লাখ ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে এবং স্বাস্থ্য খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রতি মাসে সম্মানীর ব্যবস্থা এবং কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের মাধ্যমে কর প্রদানে হয়রানি বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানির ওপর কর আরোপ এবং এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন
তিনি বলেন, বহু বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এই বাজেট প্রণয়ন করেছে, যেখানে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আইসিটি, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর ফলে অতীতে বাজেট ঘোষণার পর দাম বাড়ার যে প্রবণতা ছিল, তা রোধ করা সম্ভব হবে।
স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বাজেট শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বরং তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে। পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বাজেট দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, ব্যবসাবান্ধব এবং সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণমুখী একটি ‘সৃজনশীল’ ও ‘যুগান্তকারী’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছে সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে এই বাজেট বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর পৃথক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনে নিজের চেম্বারে বাজেট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থনীতির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে যে ছাড় ও রেয়াত দেওয়া হয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। এর ফলে ভঙ্গুর অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
বাজেটের কিছু বিশেষ দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বা সৃজনশীল বাজেট। গ্রামীণ ও কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারপ্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার জন্য ১ লাখ ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে এবং স্বাস্থ্য খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রতি মাসে সম্মানীর ব্যবস্থা এবং কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের মাধ্যমে কর প্রদানে হয়রানি বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানির ওপর কর আরোপ এবং এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন
তিনি বলেন, বহু বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এই বাজেট প্রণয়ন করেছে, যেখানে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আইসিটি, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর ফলে অতীতে বাজেট ঘোষণার পর দাম বাড়ার যে প্রবণতা ছিল, তা রোধ করা সম্ভব হবে।
স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বাজেট শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বরং তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে। পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বাজেট দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে।

আপনার মতামত লিখুন