বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গত ১০ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে দৈনিক ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ সেবা নিতে আসেন। তবে হাসপাতালের জনবল কাঠামো এখনো ১৯৮১ সালের ৫০০ শয্যার জনবল অনুযায়ী চলায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে ছুটে আসেন। শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়। এ অবস্থায় নবনিযুক্ত সভাপতির কাছে বরিশালবাসীর প্রধান প্রত্যাশা হলো-হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করা এবং এটিকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর বলেন, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমপর্যায়ের জনবল ও অবকাঠামো এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া আউটসোর্সিং ও অনিবন্ধিত কর্মীদের মাধ্যমে কাজ চালানো হাসপাতালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রী সভাপতি হওয়ায় হাসপাতালের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ সহজ হবে। তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা যেন উন্নয়নযাত্রায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়ে তারা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন