সংবাদ

বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক, অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা ইরানকুন্ডার বিশ্বকাপে নজির


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক, অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা ইরানকুন্ডার বিশ্বকাপে নজির

২৪ বছর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ককে হতাশায় ডুবিয়ে ২-০ গোলের দারুণ জয় তুলে নেয় গত আসরে শেষ ষোলোয় খেলা অস্ট্রেলিয়া। ২৭ মিনিটে ইরানকুন্ডা ও ৭৫ মিনিটে মেটকাফে সকারুদের হয়ে গোল করেন। ২০ বছরের নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এ বারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোলদাতা।

গত জুনের এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ঢাকায় কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ইরানকুন্ডার। জাতীয় দলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্যালেস্টইনের বিপক্ষে জালের দেখা পান। দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ফেলেন তখনই বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই নজির গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তিনি এখন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা। তিনি আদতে বুরুন্ডির। জন্ম তানজানিয়ায়। বড় হয়েছেন অ্যাডিলেডে।

২০ বছরের ইরানকুন্ডা এ বারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোলদাতা। প্রায় মাঝমাঠে বল পেয়ে একক দক্ষতায় করা তার গোল প্রশংসা পেয়েছে ফুটবল বোদ্ধাদের। বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। সুযোগ নষ্ট না করলে তুরস্কের বিপক্ষে আরও গোল করতে পারতেন তিনি। ছোটবেলাটা অবশ্য এত ঝকঝকে ছিল না তার। বুরুন্ডির গৃহযুদ্ধের সময় প্রাণ বাঁচাতে তানজানিয়ায় চলে যান ইরানকুন্ডার বাবা-মা। সেখানকার এক শরণার্থী শিবিরে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসে তার পরিবার। অ্যাডিলেডের উত্তর শহরতলিতে কেটেছে শৈশব। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর প্রথমে কিছু দিন তারা ছিলেন পার্থে। ফুটবল শেখা শুরু অ্যাডিলেডেই।

অস্ট্রেলিয়ায় ইরানকুন্ডা অন্যতম সেরা সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসাবে বিবেচিত। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘দুর্দান্ত গতি, অপ্রতিরোধ্য শক্তি, নিখুঁত কৌশল এবং নির্ভীক ড্রিবল এবং খেলা সম্পর্কে উপলব্ধি ইরানকুন্ডাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। সবচেয়ে শক্তিশালী হলো ডান পা। এত ভালো ডান পা অস্ট্রেলীয় ফুটবলে সম্ভবত আগে আসেনি।’

অ্যাডিলেড ইউনাইটেড অ্যাকাডেমিতে ফুটবল শেখা শুরু ইরানকুন্ডার। তাদের হয়েই ২০২২ সালে এ লীগে অভিষেক। অস্ট্রেলিয়ার সেরা লীগে দ্রুত নজর কেড়ে নেন। সে বছরই সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। তাকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় ইউরোপের একাধিক প্রথমসারির ক্লাবের। ২০২৪ সালে তাকে চুক্তিবদ্ধ করে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মানির ক্লাবের দ্বিতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেলেও প্রথম দলে জায়গা করতে পারেননি। তাকে লোনে দিয়ে দেয়া হয় গ্রাসহুপারকে। এর পর ২০২৫ সালে ইরানকুন্ডা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডের সঙ্গে। মূলত উইঙ্গার হলেও খেলতে পারেন স্ট্রাইকার হিসাবেও।

ফুটবলজীবন সবে শুরু করেছেন। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে ইরানকুন্ডা অনেক দূর যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার গতি এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক, অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা ইরানকুন্ডার বিশ্বকাপে নজির

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

২৪ বছর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্ককে হতাশায় ডুবিয়ে ২-০ গোলের দারুণ জয় তুলে নেয় গত আসরে শেষ ষোলোয় খেলা অস্ট্রেলিয়া। ২৭ মিনিটে ইরানকুন্ডা ও ৭৫ মিনিটে মেটকাফে সকারুদের হয়ে গোল করেন। ২০ বছরের নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এ বারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোলদাতা।

গত জুনের এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ঢাকায় কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ইরানকুন্ডার। জাতীয় দলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্যালেস্টইনের বিপক্ষে জালের দেখা পান। দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ফেলেন তখনই বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই নজির গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তিনি এখন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম গোলদাতা। তিনি আদতে বুরুন্ডির। জন্ম তানজানিয়ায়। বড় হয়েছেন অ্যাডিলেডে।

২০ বছরের ইরানকুন্ডা এ বারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোলদাতা। প্রায় মাঝমাঠে বল পেয়ে একক দক্ষতায় করা তার গোল প্রশংসা পেয়েছে ফুটবল বোদ্ধাদের। বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। সুযোগ নষ্ট না করলে তুরস্কের বিপক্ষে আরও গোল করতে পারতেন তিনি। ছোটবেলাটা অবশ্য এত ঝকঝকে ছিল না তার। বুরুন্ডির গৃহযুদ্ধের সময় প্রাণ বাঁচাতে তানজানিয়ায় চলে যান ইরানকুন্ডার বাবা-মা। সেখানকার এক শরণার্থী শিবিরে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসে তার পরিবার। অ্যাডিলেডের উত্তর শহরতলিতে কেটেছে শৈশব। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর প্রথমে কিছু দিন তারা ছিলেন পার্থে। ফুটবল শেখা শুরু অ্যাডিলেডেই।

অস্ট্রেলিয়ায় ইরানকুন্ডা অন্যতম সেরা সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসাবে বিবেচিত। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে তার সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘দুর্দান্ত গতি, অপ্রতিরোধ্য শক্তি, নিখুঁত কৌশল এবং নির্ভীক ড্রিবল এবং খেলা সম্পর্কে উপলব্ধি ইরানকুন্ডাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। সবচেয়ে শক্তিশালী হলো ডান পা। এত ভালো ডান পা অস্ট্রেলীয় ফুটবলে সম্ভবত আগে আসেনি।’

অ্যাডিলেড ইউনাইটেড অ্যাকাডেমিতে ফুটবল শেখা শুরু ইরানকুন্ডার। তাদের হয়েই ২০২২ সালে এ লীগে অভিষেক। অস্ট্রেলিয়ার সেরা লীগে দ্রুত নজর কেড়ে নেন। সে বছরই সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। তাকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় ইউরোপের একাধিক প্রথমসারির ক্লাবের। ২০২৪ সালে তাকে চুক্তিবদ্ধ করে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মানির ক্লাবের দ্বিতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেলেও প্রথম দলে জায়গা করতে পারেননি। তাকে লোনে দিয়ে দেয়া হয় গ্রাসহুপারকে। এর পর ২০২৫ সালে ইরানকুন্ডা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডের সঙ্গে। মূলত উইঙ্গার হলেও খেলতে পারেন স্ট্রাইকার হিসাবেও।

ফুটবলজীবন সবে শুরু করেছেন। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে ইরানকুন্ডা অনেক দূর যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার গতি এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত