সংবাদ

‘অনুমতি দেয়নি ভারত’, নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

‘অনুমতি দেয়নি ভারত’, নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতি দেখিয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ)। ফলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার উদ্যোগটি আটকে গেছে।

নেপালের জ্বালানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে র‌বিবার (১৪ জুন) ‘কাঠমান্ডু পোস্টে’ প্রকাশিত এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

নেপালের বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জুন থেকে নেপাল শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই বাংলাদেশে রপ্তানি করবে।

কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত  ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রেরণের জন্য একটি নতুন বা সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সিদ্ধান্তের মতো আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখনও বাকি রয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে, এবং শীতকালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়।

কিন্তু এনভিভিএন পরবর্তীতে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।

এনইএ-এর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা বলেন, “এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই যাবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও আমরা এনভিভিএন-এর মাধ্যমে ভারতের সিইএ-তে প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত সক্ষমতা নেই।”

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে নেপাল-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) এবং যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে, তবে এই বৈঠকগুলোর সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেপাল-ভারত জেএসসি বৈঠকে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত চুক্তি হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ, বিপিডিবি এবং এনভিভিএন-এর মধ্যে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে এই বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশূলী এবং চিলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৪০ ইউএস সেন্ট মূল্যে বাংলাদেশে বিক্রি করা হয়। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

কাঠমান্ডু পোস্টে প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়, নতুন ২০ মেগাওয়াট যুক্ত হলে মোট রপ্তানি ৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাত এবং একই শর্ত ও দাম প্রযোজ্য হতো বলে জানিয়েছে এনইএ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় (১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘অনুমতি দেয়নি ভারত’, নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতি দেখিয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ)। ফলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার উদ্যোগটি আটকে গেছে।

নেপালের জ্বালানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে র‌বিবার (১৪ জুন) ‘কাঠমান্ডু পোস্টে’ প্রকাশিত এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

নেপালের বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জুন থেকে নেপাল শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই বাংলাদেশে রপ্তানি করবে।

কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত  ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রেরণের জন্য একটি নতুন বা সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সিদ্ধান্তের মতো আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখনও বাকি রয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে, এবং শীতকালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়।

কিন্তু এনভিভিএন পরবর্তীতে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।

এনইএ-এর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা বলেন, “এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই যাবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও আমরা এনভিভিএন-এর মাধ্যমে ভারতের সিইএ-তে প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত সক্ষমতা নেই।”

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে নেপাল-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) এবং যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে, তবে এই বৈঠকগুলোর সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেপাল-ভারত জেএসসি বৈঠকে ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত চুক্তি হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এনইএ, বিপিডিবি এবং এনভিভিএন-এর মধ্যে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে এই বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশূলী এবং চিলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৪০ ইউএস সেন্ট মূল্যে বাংলাদেশে বিক্রি করা হয়। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

কাঠমান্ডু পোস্টে প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়, নতুন ২০ মেগাওয়াট যুক্ত হলে মোট রপ্তানি ৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাত এবং একই শর্ত ও দাম প্রযোজ্য হতো বলে জানিয়েছে এনইএ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় (১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন রুপি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত