সংবাদ

বিজ্ঞান মেলায় বক্তারা

খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ

  • নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকার প্রশংসায় জুবাইদা রহমান
  • শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন

শিক্ষক-শিক্ষিকারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও মনোযোগী ভূমিকা পালন করায় নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীরা মেধার বিকাশ ঘটাতে পারছে বলে মনে করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান।

আর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তাদের আশা খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।

র‌বিবার (১৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে এই বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খুদে বিজ্ঞানীদের সৃজনশীলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরাজীর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর চিত্র তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রশংসা করেন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দিনাজপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অবহেলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে অবহেলার কারণে বহু স্কুলের অবকাঠামো আজ বিধ্বস্ত। কিন্তু শত কষ্টের মাঝেও আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেয়া থামায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী ভূমিকা পালন করছেন।’

একটি জীর্ণ বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী বলেন, ‘মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না; হয় সে জিতবে, না হলে সে শিখবে।’

এই শিক্ষাকে ধারণ করে আগামী দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করার প্রস্তাব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভারা একদিন বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন তার বক্তব্যে জানান, এই সৃজনশীল ও ভিন্নমাত্রিক প্রতিযোগিতাটি শুধু ঢাকায় নয়, একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে সারা দেশ থেকে প্রায় ১২,০০০ টিমে ৩৬,০০০ শিক্ষার্থী এবং ২৪,০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি এই আয়োজনের নেপথ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ‘সুরভী’র ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একটি কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় নানা চাপের মাঝেও কোনো সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সুযোগ্য সহধর্মিণীর উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠান দুটি অনলাইন সায়েন্স ফেয়ার, আর্টস কম্পিটিশন ও উদ্ভাবনী ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেই সফল মডেলকেই ধারণ করা হয়েছে।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক ‘ভয়ের নয়, ভালোবাসার’ হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক ও সৃজনশীল করা হবে। স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, বিতর্ক, আবৃত্তি, খেলাধুলা বা ধর্মীয় শিক্ষা—শিক্ষার্থীরা যার যা পছন্দ, সেই অনুযায়ী মেধা বিকাশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত সহযোগিতা পাবে। দেশের এই বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বা তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা পর্যায় থেকে আগত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি সময়োপযোগী বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং উদ্ভাবনী স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেন। অতিথিরা খুদে বিজ্ঞানীদের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের শ্রম ও মেধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট আয়োজক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান অতিথিরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

  • নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকার প্রশংসায় জুবাইদা রহমান
  • শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: মাহদী আমিন

শিক্ষক-শিক্ষিকারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও মনোযোগী ভূমিকা পালন করায় নানা প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীরা মেধার বিকাশ ঘটাতে পারছে বলে মনে করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জুবাইদা রহমান।

আর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক, সৃজনশীল ও কর্মমুখী করে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তাদের আশা খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।

র‌বিবার (১৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে এই বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খুদে বিজ্ঞানীদের সৃজনশীলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরাজীর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোর চিত্র তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রশংসা করেন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দিনাজপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অবহেলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে অবহেলার কারণে বহু স্কুলের অবকাঠামো আজ বিধ্বস্ত। কিন্তু শত কষ্টের মাঝেও আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেয়া থামায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী ভূমিকা পালন করছেন।’

একটি জীর্ণ বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী বলেন, ‘মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না; হয় সে জিতবে, না হলে সে শিখবে।’

এই শিক্ষাকে ধারণ করে আগামী দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করার প্রস্তাব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভারা একদিন বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন তার বক্তব্যে জানান, এই সৃজনশীল ও ভিন্নমাত্রিক প্রতিযোগিতাটি শুধু ঢাকায় নয়, একযোগে দেশের ৬৪টি জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে সারা দেশ থেকে প্রায় ১২,০০০ টিমে ৩৬,০০০ শিক্ষার্থী এবং ২৪,০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি এই আয়োজনের নেপথ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং ‘সুরভী’র ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘একটি কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় নানা চাপের মাঝেও কোনো সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সুযোগ্য সহধর্মিণীর উদ্যোগে এই প্রতিষ্ঠান দুটি অনলাইন সায়েন্স ফেয়ার, আর্টস কম্পিটিশন ও উদ্ভাবনী ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আজ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেই সফল মডেলকেই ধারণ করা হয়েছে।’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক ‘ভয়ের নয়, ভালোবাসার’ হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক ও সৃজনশীল করা হবে। স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, বিতর্ক, আবৃত্তি, খেলাধুলা বা ধর্মীয় শিক্ষা—শিক্ষার্থীরা যার যা পছন্দ, সেই অনুযায়ী মেধা বিকাশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত সহযোগিতা পাবে। দেশের এই বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বা তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা পর্যায় থেকে আগত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি সময়োপযোগী বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং উদ্ভাবনী স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেন। অতিথিরা খুদে বিজ্ঞানীদের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের শ্রম ও মেধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট আয়োজক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান অতিথিরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত