পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন ইস্যু এবার নতুন মাত্রা পেল। ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগদানের জল্পনা ঘিরে শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে যে হাওড়ার হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় এনসিপিআই কার্যালয়ের বাইরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।
এই ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বড় নাটকীয় মোড় এসেছে এনসিপিআই-এর অভ্যন্তরীণ অবস্থান বদলের মাধ্যমে। দলের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে, যিনি মাত্র একদিন আগেও এই সংযুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তিনিই এখন ইউ-টার্ন নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন। আগে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সভাপতি-র বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছিলেন। তবে দলীয় বৈঠকের পর তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলের ভিতরে আসলে কী চলছে?
অন্যদিকে, শিউলি কুন্ডের দাবি করেছেন, শান্তনু দে ২০২৩ সালের পর থেকে দলের কোনও পদেই নেই। এমনকি তিনি নিজেই একসময় দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বলেও জানিয়েছেন। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এনসিপিআই-এর ভিতরের দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এদিকে হাওড়ার হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে ভবনটি বর্তমানে এনসিপিআই-এর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি আগে একটি এনজিওর অফিস ছিল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই সংগঠনটি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে। কিন্তু বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের খবর সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিনে কার্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্ভাব্য রাজনৈতিক জমায়েত বা অশান্তির আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই দলবদল মমতা ব্যানার্জি -এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপ্রিল-মে মাসের নির্বাচনের পর থেকেই দলটি অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলাতে ব্যস্ত, আর তার মধ্যেই একাধিক সাংসদের বিদ্রোহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই সাংসদ কাকলি ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিদ্রোহীদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। অসরঃ ঝযধয-এর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও বিজেপি নেতৃত্ব এই ভাঙনের সঙ্গে নিজেদের সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন বলে দাবি করেছে। বিজেপি নেতা ঝাঁবহফঁ অফযরশধৎর আগেই জানিয়েছেন, তৃণমূলের এই সংকট তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভাঙন, এনসিপিআই-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রশাসনিক সতর্কতা—এই তিনের সংমিশ্রণে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন ইস্যু এবার নতুন মাত্রা পেল। ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগদানের জল্পনা ঘিরে শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে যে হাওড়ার হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় এনসিপিআই কার্যালয়ের বাইরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।
এই ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বড় নাটকীয় মোড় এসেছে এনসিপিআই-এর অভ্যন্তরীণ অবস্থান বদলের মাধ্যমে। দলের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু দে, যিনি মাত্র একদিন আগেও এই সংযুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তিনিই এখন ইউ-টার্ন নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন। আগে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সভাপতি-র বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছিলেন। তবে দলীয় বৈঠকের পর তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলের ভিতরে আসলে কী চলছে?
অন্যদিকে, শিউলি কুন্ডের দাবি করেছেন, শান্তনু দে ২০২৩ সালের পর থেকে দলের কোনও পদেই নেই। এমনকি তিনি নিজেই একসময় দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বলেও জানিয়েছেন। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এনসিপিআই-এর ভিতরের দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এদিকে হাওড়ার হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে ভবনটি বর্তমানে এনসিপিআই-এর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি আগে একটি এনজিওর অফিস ছিল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই সংগঠনটি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে। কিন্তু বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের খবর সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিনে কার্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্ভাব্য রাজনৈতিক জমায়েত বা অশান্তির আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই দলবদল মমতা ব্যানার্জি -এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপ্রিল-মে মাসের নির্বাচনের পর থেকেই দলটি অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলাতে ব্যস্ত, আর তার মধ্যেই একাধিক সাংসদের বিদ্রোহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই সাংসদ কাকলি ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিদ্রোহীদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। অসরঃ ঝযধয-এর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও বিজেপি নেতৃত্ব এই ভাঙনের সঙ্গে নিজেদের সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন বলে দাবি করেছে। বিজেপি নেতা ঝাঁবহফঁ অফযরশধৎর আগেই জানিয়েছেন, তৃণমূলের এই সংকট তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভাঙন, এনসিপিআই-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রশাসনিক সতর্কতা—এই তিনের সংমিশ্রণে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন