হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড় এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্য, সবুজ প্রকৃতি এবং বনভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত। চা-বাগান, পাহাড় আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রাম পরিবেষ্টিত এই উদ্যানটি এখন পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এখানে প্রায় ১৪৫ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৯৭ প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ উল্লেখযোগ্য। বনের প্রধান আকর্ষণ হলো বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক। এ ছাড়া মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, লজ্জাবতী বানর ও মেছোবাঘের দেখা মেলে এখানে। তবে বর্তমানে বনটির জীববৈচিত্র্য চ্যালেঞ্জের মুখে। মেছোবাঘ, মায়া হরিণ ও উল্লুকসহ কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানে রয়েছে সুপরিকল্পিত তিনটি ট্রেইল ব্যবস্থা- আধঘণ্টা, এক ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টার পথ। বনের গভীরতা ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য রয়েছে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। তরুণ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ট্রি অ্যাকটিভিটি’ বা দড়ি ও কাঠের সেতু ব্যবহার করে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলাচলের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
নিরাপদ ভ্রমণের জন্য উদ্যানে অভিজ্ঞ গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন দর্শনার্থীদের জন্য গাইড ফি সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। উদ্যানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা জরুরি, কারণ বনের অনেক স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ‘সাতছড়ি একটি আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উদ্যানটির উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।’
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ ফয়সাল জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানকে পর্যটনে শীর্ষে নিতে সাজানো হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। দ্রুতই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড় এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্য, সবুজ প্রকৃতি এবং বনভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত। চা-বাগান, পাহাড় আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গ্রাম পরিবেষ্টিত এই উদ্যানটি এখন পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এখানে প্রায় ১৪৫ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৯৭ প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ উল্লেখযোগ্য। বনের প্রধান আকর্ষণ হলো বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক। এ ছাড়া মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, লজ্জাবতী বানর ও মেছোবাঘের দেখা মেলে এখানে। তবে বর্তমানে বনটির জীববৈচিত্র্য চ্যালেঞ্জের মুখে। মেছোবাঘ, মায়া হরিণ ও উল্লুকসহ কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানে রয়েছে সুপরিকল্পিত তিনটি ট্রেইল ব্যবস্থা- আধঘণ্টা, এক ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টার পথ। বনের গভীরতা ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য রয়েছে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। তরুণ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ট্রি অ্যাকটিভিটি’ বা দড়ি ও কাঠের সেতু ব্যবহার করে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলাচলের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
নিরাপদ ভ্রমণের জন্য উদ্যানে অভিজ্ঞ গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন দর্শনার্থীদের জন্য গাইড ফি সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। উদ্যানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা জরুরি, কারণ বনের অনেক স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ‘সাতছড়ি একটি আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উদ্যানটির উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।’
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ ফয়সাল জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানকে পর্যটনে শীর্ষে নিতে সাজানো হচ্ছে মহাপরিকল্পনা। দ্রুতই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/

আপনার মতামত লিখুন