আকস্মিক বন্যার হাত থেকে ফেনী জেলাকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে সরকার। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প অনুযায়ী, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার খনন, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন এবং ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের কাজ করা হবে। এ ছাড়া একটি আধুনিক হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম, তিনটি নতুন রেগুলেটর এবং ২৭টি বিদ্যমান সেচ অবকাঠামোর পুনর্বাসন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষিজমিসহ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। এ ছাড়া বছরে অতিরিক্ত পৌনে চার লাখ টন শস্য ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রকল্প অনুমোদনের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ। ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনীর দীর্ঘদিনের একটি জনদাবি পূরণ হয়েছে। কাজ যাতে টেকসই ও মানসম্পন্ন হয়, সে জন্য তদারকি অব্যাহত থাকবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘প্রকল্পটি পাস হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। যেহেতু জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা নেই, তাই আশা করছি এক মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা যাবে।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল এই জনদাবি পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের ফলে তাঁরা স্থায়ীভাবে ভাঙন ও বন্যার আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন