নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার (১৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার মামলার যুক্তিতর্ক শেষে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার মিয়াখাননগরে থাকতেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাইব্যুনাল আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
গত ২১ মে বিকালে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। গত ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
ঘটনার দিন শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় নামেন।
অভিযুক্ত মনির হোসেন স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তারা ভবনের কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ১০টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে বিক্ষুব্ধ ভিড়ের মধ্য দিয়ে বাকলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়।
পরদিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিন বিকালে আদালতে হাজির করে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
ঘটনার পরদিন ২২ মে মামলা হয়। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ ছিল। তারপর ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়- সাত কার্যদিবসের মধ্যে। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার (১৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার মামলার যুক্তিতর্ক শেষে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছেন।
এ মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার মিয়াখাননগরে থাকতেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাইব্যুনাল আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
গত ২১ মে বিকালে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। গত ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
ঘটনার দিন শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় নামেন।
অভিযুক্ত মনির হোসেন স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তারা ভবনের কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ১০টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে বিক্ষুব্ধ ভিড়ের মধ্য দিয়ে বাকলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে পৌঁছে যায়।
পরদিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিন বিকালে আদালতে হাজির করে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
ঘটনার পরদিন ২২ মে মামলা হয়। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ ছিল। তারপর ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়- সাত কার্যদিবসের মধ্যে। তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন