লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর এক কন্যাশিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ৭ বছর বয়সী নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুর থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। আজ সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। সেখানে খুঁড়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ পাওয়া যায়।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কয়েকটি ঘর ও মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) বহনকারী গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদেরও। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পরে দুপুরের দিকে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্তের স্বজনদের উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে নিখোঁজের পর জিডি না নেওয়ার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন