সংবাদ

বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে বাজেটে জনগণের কল্যাণে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাকে যারা ‘গণবিরোধী’ বলে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। সংসদের ভেতরে বা বাইরে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে দেশের অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (কলেজ) মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ‘চানাচুরের’ সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যার মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে! যারা এসব কাজে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ এরা দেশে অশান্তি করার সুযোগ পেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা শুল্ক প্রত্যাহারের এই ধারাবাহিকতা আমরা বজায় রাখতে পারব না।’

গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যতবারই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, মানুষ ধানের শীষকে বেছে নিয়েছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। যারা প্রশ্ন তোলে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের টাকা কোত্থেকে আসবে, তাদের বলতে চাই এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে, কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না। আজ থেকে আমরা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’

চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ ও ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারী গৃহপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং কম্পিউটারের বোতাম চেপে দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিশেষ শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

এছাড়া আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করা, যেন দেশ স্বাবলম্বী হতে পারে।’

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের পক্ষে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে বাজেটে জনগণের কল্যাণে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাকে যারা ‘গণবিরোধী’ বলে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। সংসদের ভেতরে বা বাইরে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে দেশের অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (কলেজ) মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ‘চানাচুরের’ সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যার মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে! যারা এসব কাজে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ এরা দেশে অশান্তি করার সুযোগ পেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা শুল্ক প্রত্যাহারের এই ধারাবাহিকতা আমরা বজায় রাখতে পারব না।’

গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যতবারই বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, মানুষ ধানের শীষকে বেছে নিয়েছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। যারা প্রশ্ন তোলে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের টাকা কোত্থেকে আসবে, তাদের বলতে চাই এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে, কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না। আজ থেকে আমরা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’

চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ ও ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারী গৃহপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং কম্পিউটারের বোতাম চেপে দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ৫০ জন শ্রমিককে ঘর বানানোর জন্য ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিশেষ শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।

এছাড়া আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করা, যেন দেশ স্বাবলম্বী হতে পারে।’

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের পক্ষে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত