বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খরস্রোতা করতোয়া নদীতে পানিপ্রবাহ নেই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নদীর উৎসমুখে নির্মিত একটি স্লুইসগেট বছরের পর বছর বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের একসময়ের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত এই নদীটি এখন মৃতপ্রায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দখল, দূষণ ও ভরাটের তীব্র সংকট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জে স্লুইসগেটের উত্তর পাশে নদীতে পানির প্রবল প্রবাহ থাকলেও দক্ষিণ পাশে বগুড়ামুখী অংশে নদী প্রায় মরুভূমি। কোথাও তলদেশ জেগে উঠেছে, কোথাও বা চরের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ ধরে স্লুইসগেটটি বন্ধ থাকায় ভাটির ১২৩ কিলোমিটার এলাকায় পানি পৌঁছায় না। ফলে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, করতোয়া একসময় তিস্তা নদীর প্রধান শাখা ছিল। ১৭৮৭ সালের বন্যার পর তিস্তা গতিপথ বদলালে করতোয়া মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে দখল আর দূষণে নদীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। বগুড়া ও শেরপুর শহরের ময়লা-আবর্জনা ও কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় শুষ্ক মৌসুমে পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে।
পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, ‘আশির দশকে স্লুইসগেটের কারণে উৎসমুখ ভরাট হওয়ার পর থেকেই প্রবাহ কমতে শুরু করে। বর্তমানে দখল ও দূষণ একে একে নদীটিকে শেষ করে দিচ্ছে।’
এদিকে করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটার পথ পুনঃখনন করা হবে। এর আগে পাউবো ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অংশ খনন করলেও নদীর প্রবাহ ফেরেনি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, পলি জমা ও উৎস পরিবর্তনের কারণে নাব্যতা কমেছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানিধারণ ক্ষমতা বাড়বে। তবে বাপার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফজলে রাব্বি ডলারের মতে, শুধু খনন করে নদী বাঁচানো সম্ভব নয়; উৎসমুখের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত এবং দখল-দূষণ বন্ধ করা না গেলে কোনো প্রকল্পই সফল হবে না।
/

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও বগুড়ার শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খরস্রোতা করতোয়া নদীতে পানিপ্রবাহ নেই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নদীর উৎসমুখে নির্মিত একটি স্লুইসগেট বছরের পর বছর বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের একসময়ের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত এই নদীটি এখন মৃতপ্রায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দখল, দূষণ ও ভরাটের তীব্র সংকট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জে স্লুইসগেটের উত্তর পাশে নদীতে পানির প্রবল প্রবাহ থাকলেও দক্ষিণ পাশে বগুড়ামুখী অংশে নদী প্রায় মরুভূমি। কোথাও তলদেশ জেগে উঠেছে, কোথাও বা চরের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ ধরে স্লুইসগেটটি বন্ধ থাকায় ভাটির ১২৩ কিলোমিটার এলাকায় পানি পৌঁছায় না। ফলে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, করতোয়া একসময় তিস্তা নদীর প্রধান শাখা ছিল। ১৭৮৭ সালের বন্যার পর তিস্তা গতিপথ বদলালে করতোয়া মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে দখল আর দূষণে নদীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন। বগুড়া ও শেরপুর শহরের ময়লা-আবর্জনা ও কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলায় শুষ্ক মৌসুমে পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে।
পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, ‘আশির দশকে স্লুইসগেটের কারণে উৎসমুখ ভরাট হওয়ার পর থেকেই প্রবাহ কমতে শুরু করে। বর্তমানে দখল ও দূষণ একে একে নদীটিকে শেষ করে দিচ্ছে।’
এদিকে করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটার পথ পুনঃখনন করা হবে। এর আগে পাউবো ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অংশ খনন করলেও নদীর প্রবাহ ফেরেনি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, পলি জমা ও উৎস পরিবর্তনের কারণে নাব্যতা কমেছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানিধারণ ক্ষমতা বাড়বে। তবে বাপার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফজলে রাব্বি ডলারের মতে, শুধু খনন করে নদী বাঁচানো সম্ভব নয়; উৎসমুখের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত এবং দখল-দূষণ বন্ধ করা না গেলে কোনো প্রকল্পই সফল হবে না।
/

আপনার মতামত লিখুন