গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন-বাটি গ্রামের আশরাফ খন্দকার, তাইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলম। তারা স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত সোমবার রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে সাঘাটা থানায় মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুল, তার ভাই পলাশ ও মোনারুল ইসলাম।
গত ২১ জুন (রোববার) বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় সাইফুল্লাহ বারীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ইউনিয়ন যুবদলের তৎকালীন আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও তার সহযোগীরা সাইফুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে বুক ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গাইবান্ধা ও ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবির। অন্যদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমানকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। গতকাল সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন হয়।
সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, ঘটনার দিনই একজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তার দেওয়া তথ্যে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য পলাতকদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন