চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ডব্লিউইএফ-এর এই মূল অধিবেশন শুরু হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দিয়ে উপস্থিত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আলোচনা করেছেন। সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওকসহ ৯০টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৭শরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
এই ফোরামে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবেন, যা দেশের নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত পোষণ করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পানি কূটনীতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজাখস্তানের প্রস্তাবে বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের কার্যক্রম শেষ করে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে বুলেট ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হোন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয়। সফরের দ্বিতীয় ধাপে গত সোমবার তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। বেইজিং সফরের মাধ্যমে তার এই সরকারি সফরটি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ডব্লিউইএফ-এর এই মূল অধিবেশন শুরু হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দিয়ে উপস্থিত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আলোচনা করেছেন। সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওকসহ ৯০টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৭শরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
এই ফোরামে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবেন, যা দেশের নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত পোষণ করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পানি কূটনীতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজাখস্তানের প্রস্তাবে বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার ফোরামের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের কার্যক্রম শেষ করে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে বুলেট ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হোন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয়। সফরের দ্বিতীয় ধাপে গত সোমবার তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। বেইজিং সফরের মাধ্যমে তার এই সরকারি সফরটি আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন