রাজধানীর বনানী এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংসে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। পূর্বে সতর্ক করার পরও লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, যা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।
ডেঙ্গুর প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো নয়; আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত অভিযান চললেও এটি সফল করতে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সবার পরিবার ও সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি জড়িত।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার বা যেকোনো পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি রিহ্যাব ও গণমাধ্যমকে সচেতনতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বাসাবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা নাগরিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।"
এই অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং বনানী সোসাইটির নেতাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
রাজধানীর বনানী এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংসে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। পূর্বে সতর্ক করার পরও লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, যা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।
ডেঙ্গুর প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো নয়; আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত অভিযান চললেও এটি সফল করতে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সবার পরিবার ও সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি জড়িত।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার বা যেকোনো পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি রিহ্যাব ও গণমাধ্যমকে সচেতনতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বাসাবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা নাগরিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।"
এই অভিযানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং বনানী সোসাইটির নেতাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন