সংবাদ

হাঁড়িভাঙ্গার জাদুতে মাতোয়ারা জার্মানি


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

হাঁড়িভাঙ্গার জাদুতে মাতোয়ারা জার্মানি

দেশের একমাত্র জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত রংপুরের সুস্বাদু ও আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে এখন বিশ্ববাজারে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো জার্মানিতে ১০০ মেট্রিক টন হাঁড়িভাঙ্গা আম রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের আশা, এ বছর এই আম থেকে রপ্তানি আয় ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার পর থেকে দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় মৌসুমের শুরুতেই বাগানে ৫০ টাকা কেজি দরের আম এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকার গ্রিন গ্লোবাল অ্যাগ্রো লিমিটেডের মাধ্যমে বুধবার ১০০ মেট্রিক টন আম জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক কাওছার আহমেদ জানান, গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে আম পাঠানো হয়েছিল। এবার জার্মানি থেকে বড় অর্ডার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে।

রংপুরের আমচাষিরা জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রধানত দুই ধরনের মাটির হয়। এর মধ্যে ‘খিয়ার’ বা লালমাটির আম বেশি সুস্বাদু এবং দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে দোআঁশ মাটির আম স্বাদে কিছুটা পিছিয়ে এবং দ্রুত পচনশীল। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দোআঁশ মাটির আমকে লালমাটির আম বলে বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার হাঁড়িভাঙ্গা আমের ‘রাজধানী’ খ্যাত পদাগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল আমের বাজার বসেছে। বরিশাল থেকে আম কিনতে আসা পাইকার মোস্তফা বলেন, কুরিয়ার খরচ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটের বাড়তি দামের কারণে খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে তিনি আম কিনছেন। এমনকি রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী মকবুল হোসেনও হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনতে পদাগঞ্জে এসেছেন। তিনি জানান, রাজশাহীর ল্যাংড়া বা হিমসাগর জনপ্রিয় হলেও তাঁদের এলাকাতেও এখন হাঁড়িভাঙ্গার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

আম পরিবহনে ব্যস্ততা বেড়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতেও। সওদাগর, ইউএস-বাংলা, জননী, সুন্দরবন ও এসএ পরিবহনের অস্থায়ী বুকিং অফিসে আমের স্তূপ দেখা গেছে। কুরিয়ারে ২০ কেজির একটি ক্যারেট পাঠাতে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এবার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


হাঁড়িভাঙ্গার জাদুতে মাতোয়ারা জার্মানি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের একমাত্র জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত রংপুরের সুস্বাদু ও আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে এখন বিশ্ববাজারে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো জার্মানিতে ১০০ মেট্রিক টন হাঁড়িভাঙ্গা আম রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের আশা, এ বছর এই আম থেকে রপ্তানি আয় ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার পর থেকে দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় মৌসুমের শুরুতেই বাগানে ৫০ টাকা কেজি দরের আম এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকার গ্রিন গ্লোবাল অ্যাগ্রো লিমিটেডের মাধ্যমে বুধবার ১০০ মেট্রিক টন আম জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক কাওছার আহমেদ জানান, গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে আম পাঠানো হয়েছিল। এবার জার্মানি থেকে বড় অর্ডার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চলছে।

রংপুরের আমচাষিরা জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম প্রধানত দুই ধরনের মাটির হয়। এর মধ্যে ‘খিয়ার’ বা লালমাটির আম বেশি সুস্বাদু এবং দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে দোআঁশ মাটির আম স্বাদে কিছুটা পিছিয়ে এবং দ্রুত পচনশীল। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দোআঁশ মাটির আমকে লালমাটির আম বলে বিক্রি করায় সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার হাঁড়িভাঙ্গা আমের ‘রাজধানী’ খ্যাত পদাগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল আমের বাজার বসেছে। বরিশাল থেকে আম কিনতে আসা পাইকার মোস্তফা বলেন, কুরিয়ার খরচ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটের বাড়তি দামের কারণে খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে তিনি আম কিনছেন। এমনকি রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী মকবুল হোসেনও হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনতে পদাগঞ্জে এসেছেন। তিনি জানান, রাজশাহীর ল্যাংড়া বা হিমসাগর জনপ্রিয় হলেও তাঁদের এলাকাতেও এখন হাঁড়িভাঙ্গার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

আম পরিবহনে ব্যস্ততা বেড়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতেও। সওদাগর, ইউএস-বাংলা, জননী, সুন্দরবন ও এসএ পরিবহনের অস্থায়ী বুকিং অফিসে আমের স্তূপ দেখা গেছে। কুরিয়ারে ২০ কেজির একটি ক্যারেট পাঠাতে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এবার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত