সংবাদ

দুপুরে হাসানুল হক ইনুর রায় ঘোষণা, ট্রাইব্যুনাল থেকে হবে সরাসরি সম্প্রচার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

দুপুরে হাসানুল হক ইনুর রায় ঘোষণা, ট্রাইব্যুনাল থেকে হবে সরাসরি সম্প্রচার

জুলাই আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কুষ্টিয়ায় ফোনালাপের পর ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঘোষণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ দুপুর দেড়টায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত ২২ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।  ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র যুক্ত রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে ৩টি অডিও এবং ৬টি ভিডিও ডকুমেন্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিবরণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিদেশি গণমাধ্যমে এবং ২৭ জুলাই দেশীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন ইনু। সেখানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আন্দোলনকারীদের 'বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক' আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন এবং সরকারি নিপীড়নকে সমর্থন করেন।

১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে ইনু ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে 'দেখামাত্র গুলি' করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন।

২০ জুলাই দুপুরে ইনু নিজ জেলা কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়ন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর ৫ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়ায় পুলিশ ও ১৪ দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন।

শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন (বিশেষ করে ২০ জুলাই এবং ৪ আগস্ট) ইনু সার্বক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও করা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও বোমা চালানো এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর সরাসরি যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হন। সেখানে শেখ হাসিনা, মাহবুবউল আলম হানিফ এবং হাসানুল হক ইনুর যৌথ পরিকল্পনা ও পূর্ব নির্দেশনার আলোকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের সশস্ত্র ক্যাডাররা (অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক প্রমুখ) পুলিশের ছত্রছায়ায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এর ফলে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে ওই ৬ জন প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


দুপুরে হাসানুল হক ইনুর রায় ঘোষণা, ট্রাইব্যুনাল থেকে হবে সরাসরি সম্প্রচার

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কুষ্টিয়ায় ফোনালাপের পর ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঘোষণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ দুপুর দেড়টায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত ২২ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।  ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র যুক্ত রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে ৩টি অডিও এবং ৬টি ভিডিও ডকুমেন্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিবরণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিদেশি গণমাধ্যমে এবং ২৭ জুলাই দেশীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন ইনু। সেখানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আন্দোলনকারীদের 'বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক' আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন এবং সরকারি নিপীড়নকে সমর্থন করেন।

১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে ইনু ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে 'দেখামাত্র গুলি' করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন।

২০ জুলাই দুপুরে ইনু নিজ জেলা কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়ন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর ৫ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়ায় পুলিশ ও ১৪ দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিতে ৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন।

শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন (বিশেষ করে ২০ জুলাই এবং ৪ আগস্ট) ইনু সার্বক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও করা, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও বোমা চালানো এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর সরাসরি যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড়ে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হন। সেখানে শেখ হাসিনা, মাহবুবউল আলম হানিফ এবং হাসানুল হক ইনুর যৌথ পরিকল্পনা ও পূর্ব নির্দেশনার আলোকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের সশস্ত্র ক্যাডাররা (অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক প্রমুখ) পুলিশের ছত্রছায়ায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এর ফলে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে ওই ৬ জন প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত