জাতিসংঘের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির সাবেক কর্মকর্তা অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহানের আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বং*সের দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনের রাজনীতি এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র। তরুণ সমাজ: দেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি তরুণ, যারা হতে পারতো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ, রাজনৈতিক লালসায় তাদের আজ 'দায়'-এ পরিণত করা হয়েছে। সহজ টাকার লোভ দেখিয়ে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে এই তরুণদের সম্পূর্ণ শিক্ষাবিমুখ ও পথভ্রষ্ট করা হয়েছে । যে তরুণেরা ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি, বিপ্লবের পর তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ক্ষমতার বাইরে থেকে রাষ্ট্রের পাহারাদার বা নাগরিক সমাজের ভূমিকা পালনের বদলে ক্ষমতার অংশীদার হতে গিয়ে তরুণ সমাজ আজ সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ হারিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা ও জবাবদিহিতাহীনতা: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মূল দায়িত্ব ভুলে ওই সরকার এখতিয়ার বহির্ভূত সংস্কার কাজে নাক গলিয়েছে। দেশের অর্থনীতি যখন খাদের কিনারে, সাধারণ মানুষ যখন মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে পিষ্ট, তখন তারা নির্বিকার থেকেছে! অর্থনীতি বা রাজস্ব সংস্কারের মতো জরুরি পদক্ষেপ না নিয়ে তারা লোক দেখানো কমিশন গঠন করেছে, যার একটি সুপারিশও তারা বাস্তবায়ন করেনি। সবচেয়ে ভ*য়ংকর বিষয় হলো, মেয়াদ শেষের মাত্র ৩ দিন আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এমন এক গোপন চুক্তি করেছে যা দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকেই বিকিয়ে দেওয়ার শামিল! জাতিসংঘের সতর্কতা সত্ত্বেও শিশুদের টিকাদানে চরম অবহেলা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় মন্দির-মূর্তি ভা*ঙচুর রোধে তাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে তাদের চরম দায়িত্বহীনতা। আর বিদায়বেলায় কোনো কারণ ছাড়াই সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাড়িয়ে দিয়ে তারা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে বিশাল এক অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে!