সংবাদ

ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার খবর ‘ভুয়া’: ইসরায়েল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার খবর ‘ভুয়া’: ইসরায়েল

​ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

​সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন— ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করেছিল যে ইসরায়েল যদি এই দুই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। এই আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করার চেষ্টাও করেছিল ওয়াশিংটন।

​তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেল আবিব। 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল'–এর বরাত দিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল ও ইরানের আলোচকদের নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনটিও আগের মতোই একটি ‘ভুয়া খবর’।

​নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করেনি।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু থেকেই ইসরায়েলের যুদ্ধ কৌশলের অংশ ছিল। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা শুরু হওয়ার পর আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এই দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা হলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে।

​এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে এই বৈঠক থেকে স্থায়ী শান্তির পথে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ মুক্ত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা আগের চুক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

​কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর (যা আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে) পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

​কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, দোহার বৈঠকে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতেই বর্তমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনার খবর ‘ভুয়া’: ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

​ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

​সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন— ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

​প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করেছিল যে ইসরায়েল যদি এই দুই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। এই আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে তেহরানকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করার চেষ্টাও করেছিল ওয়াশিংটন।

​তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেল আবিব। 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল'–এর বরাত দিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল ও ইরানের আলোচকদের নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনটিও আগের মতোই একটি ‘ভুয়া খবর’।

​নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করেনি।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু থেকেই ইসরায়েলের যুদ্ধ কৌশলের অংশ ছিল। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা শুরু হওয়ার পর আব্বাস আরাগচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এই দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা হলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে।

​এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে এই বৈঠক থেকে স্থায়ী শান্তির পথে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ মুক্ত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা আগের চুক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

​কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর (যা আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে) পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

​কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, দোহার বৈঠকে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতেই বর্তমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত