সংবাদ

উখিয়ায় পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

উখিয়ায় পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

​টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসার দেয়ালচাপায় ৮ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে জলাবদ্ধতা ও দেয়ালচাপায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইরানি পাহাড় এলাকায় অবস্থিত 'খতিজাতুল মহিলা হেফজখানা'র ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি মাদরাসার ইটের দেয়ালে আঘাত করলে সেটি ধসে যায়।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। সেখান থেকে ২০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই এবং বাকি ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে এপিবিএন। তারা হলেন, শাহিদা (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), ওমাইচা বিবি (১৩) এবং রাশিদা (১৬)। এই ঘটনায় আরও ১২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

​চট্টগ্রাম: নগরের চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসের মাটিচাপায় সুমাইয়া আক্তার (১২) এবং সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে মাটিচাপায় তানভীর নামে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​ময়মনসিংহ: নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় খাট থেকে গড়িয়ে মেঝেতে পড়ে আয়াশ নামে ৯ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​নরসিংদী: রায়পুরায় স্কুল থেকে ফেরার পথে টানা বৃষ্টির কারণে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তানঝুমা (৮) নামের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

​কক্সবাজার: মহেশখালীর সোনাদিয়ায় গর্তে পড়ে রুমা নামের ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি জমে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। গত দুই দিনে ১০টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, বান্দরবানের কসাইপাড়া-লালব্রিজ এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় এবং থানচির সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

​চট্টগ্রামের আমবাগান ও পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস যথাক্রমে ৩০১ ও ২৩৪.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। ফলে নগরের নিচু এলাকা, সড়ক এবং হাসপাতালগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা ময়মনসিংহেও, যেখানে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

​বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা ও কর্ণফুলীসহ চট্টগ্রামের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৫ মিটারেরও বেশি ওপর দিয়ে বইছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


উখিয়ায় পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

​টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসার দেয়ালচাপায় ৮ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে জলাবদ্ধতা ও দেয়ালচাপায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইরানি পাহাড় এলাকায় অবস্থিত 'খতিজাতুল মহিলা হেফজখানা'র ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি মাদরাসার ইটের দেয়ালে আঘাত করলে সেটি ধসে যায়।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। সেখান থেকে ২০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই এবং বাকি ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে এপিবিএন। তারা হলেন, শাহিদা (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২), ওমাইচা বিবি (১৩) এবং রাশিদা (১৬)। এই ঘটনায় আরও ১২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

​চট্টগ্রাম: নগরের চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসের মাটিচাপায় সুমাইয়া আক্তার (১২) এবং সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে মাটিচাপায় তানভীর নামে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​ময়মনসিংহ: নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় খাট থেকে গড়িয়ে মেঝেতে পড়ে আয়াশ নামে ৯ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​নরসিংদী: রায়পুরায় স্কুল থেকে ফেরার পথে টানা বৃষ্টির কারণে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরের দেয়াল ধসে তানঝুমা (৮) নামের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

​কক্সবাজার: মহেশখালীর সোনাদিয়ায় গর্তে পড়ে রুমা নামের ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি জমে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। গত দুই দিনে ১০টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, বান্দরবানের কসাইপাড়া-লালব্রিজ এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় এবং থানচির সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

​চট্টগ্রামের আমবাগান ও পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস যথাক্রমে ৩০১ ও ২৩৪.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। ফলে নগরের নিচু এলাকা, সড়ক এবং হাসপাতালগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা ময়মনসিংহেও, যেখানে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

​বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা ও কর্ণফুলীসহ চট্টগ্রামের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৫ মিটারেরও বেশি ওপর দিয়ে বইছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত