বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুশৃঙ্খল সুইজারল্যান্ড। পুরো ফুটবল দুনিয়ার কাছে এখন সবচেয়ে বড় ধাঁধা, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের ম্যাচ জয়ে রাঙিয়ে ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সী জাদুকর লিওনেল মেসির হাতে আবারও ট্রফি দেখার মিশন কি সচল থাকবে, নাকি সুইসরা আর্জেন্টিনার রথ থামিয়ে দেবে?
অথচ গত ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে এক অলৌকিক ‘রেমন্তাদা’ বা প্রত্যাবর্তন উপহার না দিলে আজ হয়তো চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। শেষ ১০ মিনিট বাকি থাকতেও ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক রূপকথা লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে, যেখানে মেসি নিজে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন।
মেসি-জাকার দ্বৈরথ ও ২০১৪ সালের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি
দুই দলের শক্তির জায়গা হিসেবে দুটি নাম ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে— মেসি ও গ্রানিত জাকা। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী জাদুকরের নাম ছাড়া অন্য কিছু ভাবা অবান্তর হলে ও সুইজারল্যান্ডের প্রাণভোমরা তাদের অধিনায়ক জাকা ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রেখে চলেছেন। দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে, যেখানে আনহেল দি মারিয়ার ১১৮ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচেও মাঠে ছিলেন আজকের দুই অধিনায়ক মেসি ও জাকা। পুরোনো স্মৃতি টেনে বর্তমান সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বলেছেন, “১২ বছর পর আমরা আবার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি- আমি আর রিকি। তবে এটা সম্পূর্ণ নতুন সুইজারল্যান্ড। আমাদের মানসিকতা বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলও অনেক এগিয়েছে।”
সুইস শিবিরে বড় ধাক্কা, হুঙ্কার দিয়েও চিন্তিত ইয়াকিন
কোয়ার্টার-ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় চোটের ধাক্কা লেগেছে সুইজারল্যান্ড দলে, যা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনার জন্য। দলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা ২০ বছর বয়সী তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি এখনও চোট থেকে সেরে উঠতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে মানজাম্বিকে না পাওয়ার হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
তিনি বলেছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানজাম্বির চোট আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা। এটা সত্যিই হতাশাজনক। ও দারুণ ছন্দে ছিল। মাঠে ওর খেলার আনন্দ যেমন দেখা হচ্ছিল, সতীর্থদের ওপরও সেটার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের খেলাটা যেভাবে গড়ে উঠেছিল, সেখানে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও খেলতে পারছে না।” মানজাম্বিকে ছাড়া সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগ যে কতটা ধারহীন, তা গত ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াইয়েই প্রমাণিত হয়েছে।
৮ বছরে ৪ বার! স্কালোনির সেই বিরল চালের অপেক্ষা
দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ১০১ ম্যাচের এক চক্রে লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছেন মাত্র তিনবার। একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যার চিরচেনা স্বভাব, সেই স্কালোনি কি এবার চতুর্থবারের মতো সেই বিরল পথে হাঁটবেন? মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে বেশ ভুগতে হলেও, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর আভাস; সেই জয়ী একাদশটিকেই হয়তো সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও মাঠে নামাতে যাচ্ছেন স্কালোনি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, পেশির টান থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী লাউতারো মার্তিনেজ বা ওতামেন্দিকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতিও সেরে রেখেছেন কোচ। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ জয়ের পথে এই অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারে কি না।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুশৃঙ্খল সুইজারল্যান্ড। পুরো ফুটবল দুনিয়ার কাছে এখন সবচেয়ে বড় ধাঁধা, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের ম্যাচ জয়ে রাঙিয়ে ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সী জাদুকর লিওনেল মেসির হাতে আবারও ট্রফি দেখার মিশন কি সচল থাকবে, নাকি সুইসরা আর্জেন্টিনার রথ থামিয়ে দেবে?
অথচ গত ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে এক অলৌকিক ‘রেমন্তাদা’ বা প্রত্যাবর্তন উপহার না দিলে আজ হয়তো চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। শেষ ১০ মিনিট বাকি থাকতেও ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা মাত্র ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক রূপকথা লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে, যেখানে মেসি নিজে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন।
মেসি-জাকার দ্বৈরথ ও ২০১৪ সালের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি
দুই দলের শক্তির জায়গা হিসেবে দুটি নাম ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে— মেসি ও গ্রানিত জাকা। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী জাদুকরের নাম ছাড়া অন্য কিছু ভাবা অবান্তর হলে ও সুইজারল্যান্ডের প্রাণভোমরা তাদের অধিনায়ক জাকা ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রেখে চলেছেন। দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে, যেখানে আনহেল দি মারিয়ার ১১৮ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচেও মাঠে ছিলেন আজকের দুই অধিনায়ক মেসি ও জাকা। পুরোনো স্মৃতি টেনে বর্তমান সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বলেছেন, “১২ বছর পর আমরা আবার এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি- আমি আর রিকি। তবে এটা সম্পূর্ণ নতুন সুইজারল্যান্ড। আমাদের মানসিকতা বদলেছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলও অনেক এগিয়েছে।”
সুইস শিবিরে বড় ধাক্কা, হুঙ্কার দিয়েও চিন্তিত ইয়াকিন
কোয়ার্টার-ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় চোটের ধাক্কা লেগেছে সুইজারল্যান্ড দলে, যা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনার জন্য। দলের সবচেয়ে ফর্মে থাকা ২০ বছর বয়সী তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি এখনও চোট থেকে সেরে উঠতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে মানজাম্বিকে না পাওয়ার হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
তিনি বলেছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানজাম্বির চোট আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা। এটা সত্যিই হতাশাজনক। ও দারুণ ছন্দে ছিল। মাঠে ওর খেলার আনন্দ যেমন দেখা হচ্ছিল, সতীর্থদের ওপরও সেটার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের খেলাটা যেভাবে গড়ে উঠেছিল, সেখানে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও খেলতে পারছে না।” মানজাম্বিকে ছাড়া সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগ যে কতটা ধারহীন, তা গত ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াইয়েই প্রমাণিত হয়েছে।
৮ বছরে ৪ বার! স্কালোনির সেই বিরল চালের অপেক্ষা
দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ১০১ ম্যাচের এক চক্রে লিওনেল স্কালোনি শুরুর একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছেন মাত্র তিনবার। একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যার চিরচেনা স্বভাব, সেই স্কালোনি কি এবার চতুর্থবারের মতো সেই বিরল পথে হাঁটবেন? মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে বেশ ভুগতে হলেও, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর আভাস; সেই জয়ী একাদশটিকেই হয়তো সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও মাঠে নামাতে যাচ্ছেন স্কালোনি। সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, পেশির টান থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী লাউতারো মার্তিনেজ বা ওতামেন্দিকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতিও সেরে রেখেছেন কোচ। এখন দেখার বিষয়, লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ জয়ের পথে এই অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারে কি না।

আপনার মতামত লিখুন