রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।’
চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের ঘটনাকে পদ্ধতিগত অপরাধ ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে ব্লগারবিরোধী আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নির্মূল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।’
প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন।
মামলায় আসামি কারা হচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদনে এসেছে। এসব যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’
বর্তমানে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, শাহরিয়ার কবির, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবুসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ ও ইমরান এইচ সরকারসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এবং প্রয়োজন হলে তদন্ত বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। সূত্র: বাসস।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১৯ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।’
চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের ঘটনাকে পদ্ধতিগত অপরাধ ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে ব্লগারবিরোধী আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নির্মূল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।’
প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন।
মামলায় আসামি কারা হচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদনে এসেছে। এসব যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’
বর্তমানে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, শাহরিয়ার কবির, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবুসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ ও ইমরান এইচ সরকারসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এবং প্রয়োজন হলে তদন্ত বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। সূত্র: বাসস।

আপনার মতামত লিখুন