টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে হামলা চালানোর পর তা হঠাৎ স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনীতিক তৎপরতার গতি বৃদ্ধি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুতে টান পড়া এবং সংঘাত ব্যাপক রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে প্রথম বিরতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে হামলার নতুন একটি পরিকল্পনা পেশ করা হলেও তিনি সামরিক বাহিনীকে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা ও চুক্তির দিকে এগোনোর সংকেত দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হামলা স্থগিতের এই ঘটনাটি নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ার সঙ্গেই মিলে গেছে। অ্যাক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে এবং ওমান ও ইরানের মধ্যে দ্রুতই একটি চুক্তি হতে পারে। তবে যেকোনো প্রস্তাব কার্যকর করার আগে চূড়ান্তভাবে ট্রাম্পের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে তিনি মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তির দিকে এগোনোই হবে ‘আরও বুদ্ধিমানের কৌশল’। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে কথা বলছি। দিন যত যাচ্ছে, আমার মনে হয় তারা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে’।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং জানান, ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে যায়, তবে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পথ উন্মুক্ত থাকবে।
হামলা স্থগিত করার নেপথ্যে আরেকটি বড় কারণ হলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, হামলা আরও বিস্তৃত করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। এতে করে মার্কিন সেনা, মিত্রদেশ এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে সামরিক বাহিনী আরও বড় আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও সেটি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
পত্রিকাটি আরও প্রকাশ করেছে যে পেন্টাগন সম্প্রতি ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই তাদের কাছে থাকা মজুত বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জেনারেল ড্যান কেইন উভয়েই ইরান যুদ্ধ বৃদ্ধি করার বিষয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তার কথা জানান।
বৈঠক সম্পর্কে অবহিত মার্কিন কর্মকর্তা ও সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, জেনারেল কেইন কেবল ফুরিয়ে আসা অস্ত্রের মজুত নিয়েই ট্রাম্পকে সতর্ক করেননি, বরং যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার সার্বিক পরিণতির বিষয়েও সতর্ক করেন।
পেন্টাগনের একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানগুলো বর্তমানে ‘স্থগিত’ রয়েছে। তবে এই বিরতি সাময়িক, নাকি মার্কিন রণকৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিএনএন আরও জানায়, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠমহলের কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না বাড়িয়ে অতিরিক্ত আরও হামলা চালিয়ে প্রশাসনের উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব কিনা।
অ্যাক্সিওসের মতে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে পুনরায় বা বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পেন্টাগন তাদের জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে, যাতে সংক্ষিপ্ত নোটিশেই মার্কিন বাহিনী আবার হামলা চালাতে পারে । তবে আপাতত, ট্রাম্প প্রশাসন পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব কিনা।
ট্রাম্প গত ২২ জুলাই বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের এমনটা করার অধিকার আছে’। তবে বাস্তবিকভাবে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প পথও খুব কম ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পদক্ষেপ না নিত, তবে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের একচ্ছত্র আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু প্রতিবার যখনই ট্রাম্প আরও বেশি শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছেন, ততই এ সংঘাত তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে হামলা চালানোর পর তা হঠাৎ স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনীতিক তৎপরতার গতি বৃদ্ধি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুতে টান পড়া এবং সংঘাত ব্যাপক রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে প্রথম বিরতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে হামলার নতুন একটি পরিকল্পনা পেশ করা হলেও তিনি সামরিক বাহিনীকে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা ও চুক্তির দিকে এগোনোর সংকেত দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হামলা স্থগিতের এই ঘটনাটি নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ার সঙ্গেই মিলে গেছে। অ্যাক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে এবং ওমান ও ইরানের মধ্যে দ্রুতই একটি চুক্তি হতে পারে। তবে যেকোনো প্রস্তাব কার্যকর করার আগে চূড়ান্তভাবে ট্রাম্পের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে তিনি মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তির দিকে এগোনোই হবে ‘আরও বুদ্ধিমানের কৌশল’। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে কথা বলছি। দিন যত যাচ্ছে, আমার মনে হয় তারা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে’।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং জানান, ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে যায়, তবে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পথ উন্মুক্ত থাকবে।
হামলা স্থগিত করার নেপথ্যে আরেকটি বড় কারণ হলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, হামলা আরও বিস্তৃত করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। এতে করে মার্কিন সেনা, মিত্রদেশ এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে সামরিক বাহিনী আরও বড় আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও সেটি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
পত্রিকাটি আরও প্রকাশ করেছে যে পেন্টাগন সম্প্রতি ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই তাদের কাছে থাকা মজুত বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জেনারেল ড্যান কেইন উভয়েই ইরান যুদ্ধ বৃদ্ধি করার বিষয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তার কথা জানান।
বৈঠক সম্পর্কে অবহিত মার্কিন কর্মকর্তা ও সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, জেনারেল কেইন কেবল ফুরিয়ে আসা অস্ত্রের মজুত নিয়েই ট্রাম্পকে সতর্ক করেননি, বরং যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার সার্বিক পরিণতির বিষয়েও সতর্ক করেন।
পেন্টাগনের একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানগুলো বর্তমানে ‘স্থগিত’ রয়েছে। তবে এই বিরতি সাময়িক, নাকি মার্কিন রণকৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিএনএন আরও জানায়, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠমহলের কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না বাড়িয়ে অতিরিক্ত আরও হামলা চালিয়ে প্রশাসনের উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব কিনা।
অ্যাক্সিওসের মতে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে পুনরায় বা বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য পেন্টাগন তাদের জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে, যাতে সংক্ষিপ্ত নোটিশেই মার্কিন বাহিনী আবার হামলা চালাতে পারে । তবে আপাতত, ট্রাম্প প্রশাসন পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব কিনা।
ট্রাম্প গত ২২ জুলাই বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের এমনটা করার অধিকার আছে’। তবে বাস্তবিকভাবে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প পথও খুব কম ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পদক্ষেপ না নিত, তবে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের একচ্ছত্র আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু প্রতিবার যখনই ট্রাম্প আরও বেশি শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছেন, ততই এ সংঘাত তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন