দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলার আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার তুলা চাষ সম্প্রসারণে জোর দিলেও মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলে তুলা চাষিদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে তোয়াক্কা না করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বীজ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শাসহ ১৬টি ইউনিটে এবার প্রায় তিন হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, তারা ভালো ফলনের জন্য সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১ ও ২’ জাতের বীজ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হোসেন ও ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে ‘লাল তীর’ জাতের বীজ ব্যবহার করে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি। অন্যদিকে ‘হোয়াইট গোল্ড’ জাতে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এবারও সেই জাতটি চেয়েও পাননি। কৃষকদের দাবি, প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার বিনামূল্যে মানসম্মত বীজ দিচ্ছে। সরকারি নীতিমালা মেনেই বীজ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি সময়মতো বীজ দিতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, চাহিদার তুলনায় বীজ কম এসেছে। কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে বীজ পাঠায়, তারা সেটিই বিতরণ করেন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোর জোনে ৩ হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক প্রণোদনা হিসেবে ৬০০ গ্রাম বীজ, সার ও কীটনাশক পাচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, বীজের মান ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
/

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলার আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার তুলা চাষ সম্প্রসারণে জোর দিলেও মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলে তুলা চাষিদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে তোয়াক্কা না করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বীজ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শাসহ ১৬টি ইউনিটে এবার প্রায় তিন হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, তারা ভালো ফলনের জন্য সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১ ও ২’ জাতের বীজ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হোসেন ও ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে ‘লাল তীর’ জাতের বীজ ব্যবহার করে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি। অন্যদিকে ‘হোয়াইট গোল্ড’ জাতে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এবারও সেই জাতটি চেয়েও পাননি। কৃষকদের দাবি, প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার বিনামূল্যে মানসম্মত বীজ দিচ্ছে। সরকারি নীতিমালা মেনেই বীজ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি সময়মতো বীজ দিতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, চাহিদার তুলনায় বীজ কম এসেছে। কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে বীজ পাঠায়, তারা সেটিই বিতরণ করেন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোর জোনে ৩ হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক প্রণোদনা হিসেবে ৬০০ গ্রাম বীজ, সার ও কীটনাশক পাচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, বীজের মান ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
/

আপনার মতামত লিখুন