সংবাদ

শিক্ষিকার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী, তদন্ত করবে শিক্ষা প্রশাসন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

শিক্ষিকার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী, তদন্ত করবে শিক্ষা প্রশাসন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পাশে শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নিজের হাঁটাহাটির ভিডিও পোস্ট করে ট্রল-হেনস্তার শিকার হয়েছেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তবে তার এমন ভিডিওকে অন্যায় কিছু মনে করেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অন্যদিকে বিষয়টি তদন্ত করবে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।

রোববার (২৬ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেননি। তবে গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। সিলেট সফরে এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সেশ্যাল মিডিয়াও নেই।

তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোন অশ্লীলতা নেই। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।’

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেসবুকে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শাড়ি পরে স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছেন। এরপর ওই ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি গোষ্ঠী।

তবে এই পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা পেশার মানুষজন। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও আপ করছেন তারা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা বিউটি পালের ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ‘এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আলোচিত ভিডিওটি স্কুল ছুটির পর তার এক সহকর্মী ধারণ করেছেন বলে জানান বিউটি রানী পাল। তিনি বলেন, ‘আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব?’ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে মানুষের চিন্তাভাবনা আধুনিক হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিউটি বলেন, ‘সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


শিক্ষিকার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী, তদন্ত করবে শিক্ষা প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নিজের হাঁটাহাটির ভিডিও পোস্ট করে ট্রল-হেনস্তার শিকার হয়েছেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তবে তার এমন ভিডিওকে অন্যায় কিছু মনে করেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অন্যদিকে বিষয়টি তদন্ত করবে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।

রোববার (২৬ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেননি। তবে গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। সিলেট সফরে এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সেশ্যাল মিডিয়াও নেই।

তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোন অশ্লীলতা নেই। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।’

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেসবুকে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শাড়ি পরে স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছেন। এরপর ওই ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি গোষ্ঠী।

তবে এই পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা পেশার মানুষজন। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও আপ করছেন তারা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা বিউটি পালের ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ‘এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আলোচিত ভিডিওটি স্কুল ছুটির পর তার এক সহকর্মী ধারণ করেছেন বলে জানান বিউটি রানী পাল। তিনি বলেন, ‘আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব?’ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে মানুষের চিন্তাভাবনা আধুনিক হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিউটি বলেন, ‘সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত