সংবাদ

পাহাড়ে ছয় মাসে দেড় হাজার চাঁদাবাজি, ১৬ খুন


প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

পাহাড়ে ছয় মাসে দেড় হাজার চাঁদাবাজি, ১৬ খুন
ছবি : সংগৃহীত

তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন জেলায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে অন্তত ১৬ খুন ও ৪৭ জন অপহৃত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাড়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির এই চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি।

খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, গত ছয় মাসে পাহাড়ে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, চালক ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এছাড়া আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্তত ৩৪টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। নারী সংক্রান্ত প্রতারণা, নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি।

বান্দরবান ও রাঙামাটির চিত্র
বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। কেবল ছয় মাসে ১৫২০টিরও বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটির সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, গত এক বছরে সশস্ত্র সংগঠনগুলো অন্তত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে জোরপূর্বক সংঘাত ও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিশু আইনের চরম লঙ্ঘন।

নেতাদের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; বরং পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

খাগড়াছড়ির সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার সদস্য রবিউল হোসেন, যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুরূপ কর্মসূচিতে বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তিন জেলার সংবাদ সম্মেলনেই বক্তারা পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


পাহাড়ে ছয় মাসে দেড় হাজার চাঁদাবাজি, ১৬ খুন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন জেলায় ১ হাজার ৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে অন্তত ১৬ খুন ও ৪৭ জন অপহৃত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাড়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির এই চিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি।

খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, গত ছয় মাসে পাহাড়ে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ ও ১৬টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, চালক ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এছাড়া আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্তত ৩৪টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। নারী সংক্রান্ত প্রতারণা, নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি।

বান্দরবান ও রাঙামাটির চিত্র
বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। কেবল ছয় মাসে ১৫২০টিরও বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কাঠ ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটির সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, গত এক বছরে সশস্ত্র সংগঠনগুলো অন্তত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে জোরপূর্বক সংঘাত ও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিশু আইনের চরম লঙ্ঘন।

নেতাদের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; বরং পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

খাগড়াছড়ির সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার সদস্য রবিউল হোসেন, যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুরূপ কর্মসূচিতে বান্দরবান ও রাঙামাটিতেও স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তিন জেলার সংবাদ সম্মেলনেই বক্তারা পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত