সংবাদ

ঘাস নিয়ে ফেরা হলো না বাবা-ছেলের


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ঘাস নিয়ে ফেরা হলো না বাবা-ছেলের
ছবি : সংবাদ

গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে সকালে পদ্মা নদীর চরে গিয়েছিলেন তারা। দুপুরে সেই ঘাস নিয়ে ছোট একটি ডিঙি নৌকায় করে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। কিন্তু মাঝপদ্মার প্রবল স্রোত আর ঢেউ কেড়ে নিল সব আনন্দ। নৌকা ডুবে নিখোঁজ হলেন বাবা ও ছেলে। ঘাস নিয়ে তাদের আর বাড়ি ফেরা হলো না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকার কাউসার (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪০)। এই ঘটনায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম (৫৫) জীবিত উদ্ধার হলেও হারিয়েছেন স্বামী ও সন্তানকে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পদ্মা নদীর ওপারে চরে ঘাস কাটতে যান কাউসার, তার স্ত্রী ও ছেলেসহ মোট আটজন। কাজ শেষে দুপুরে একটি ডিঙি নৌকায় ঘাসবোঝাই করে তারা রাজশাহী শহরের দিকে ফিরছিলেন। নৌকাটি বড়কুঠি সংলগ্ন মাঝনদীতে পৌঁছালে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

নৌকায় থাকা রুমন নামে এক যাত্রী জানান, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ছয়জন সাঁতার কেটে বাঁচার চেষ্টা করেন। এ সময় বড়কুঠি ঘাট থেকে একটি বড় নৌকা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করতে পারলেও কাউসার ও তার ছেলে জিয়ারুল মুহূর্তেই চোখের পলকে তলিয়ে যান।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মুঞ্জিল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই বেলা পৌনে দুইটার দিকে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নৌকায় একজন নারী ও সাতজন পুরুষ ছিলেন। ছয়জন তীরে ফিরলেও বাবা ও ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, নদীতে বর্তমানে তীব্র স্রোত রয়েছে। এ কারণে ডুবুরিদের উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল।

এদিকে এই ঘটনায় পবার শান্তিনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তীরে বসে নিখোঁজ স্বামী ও সন্তানের অপেক্ষায় জাহেরা বেগমের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের বাতাস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


ঘাস নিয়ে ফেরা হলো না বাবা-ছেলের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে সকালে পদ্মা নদীর চরে গিয়েছিলেন তারা। দুপুরে সেই ঘাস নিয়ে ছোট একটি ডিঙি নৌকায় করে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। কিন্তু মাঝপদ্মার প্রবল স্রোত আর ঢেউ কেড়ে নিল সব আনন্দ। নৌকা ডুবে নিখোঁজ হলেন বাবা ও ছেলে। ঘাস নিয়ে তাদের আর বাড়ি ফেরা হলো না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকার কাউসার (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪০)। এই ঘটনায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম (৫৫) জীবিত উদ্ধার হলেও হারিয়েছেন স্বামী ও সন্তানকে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পদ্মা নদীর ওপারে চরে ঘাস কাটতে যান কাউসার, তার স্ত্রী ও ছেলেসহ মোট আটজন। কাজ শেষে দুপুরে একটি ডিঙি নৌকায় ঘাসবোঝাই করে তারা রাজশাহী শহরের দিকে ফিরছিলেন। নৌকাটি বড়কুঠি সংলগ্ন মাঝনদীতে পৌঁছালে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

নৌকায় থাকা রুমন নামে এক যাত্রী জানান, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ছয়জন সাঁতার কেটে বাঁচার চেষ্টা করেন। এ সময় বড়কুঠি ঘাট থেকে একটি বড় নৌকা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করতে পারলেও কাউসার ও তার ছেলে জিয়ারুল মুহূর্তেই চোখের পলকে তলিয়ে যান।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মুঞ্জিল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই বেলা পৌনে দুইটার দিকে আমাদের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নৌকায় একজন নারী ও সাতজন পুরুষ ছিলেন। ছয়জন তীরে ফিরলেও বাবা ও ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, নদীতে বর্তমানে তীব্র স্রোত রয়েছে। এ কারণে ডুবুরিদের উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল।

এদিকে এই ঘটনায় পবার শান্তিনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তীরে বসে নিখোঁজ স্বামী ও সন্তানের অপেক্ষায় জাহেরা বেগমের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের বাতাস।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত