দেশের সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন উপকরণ ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে তাদের জমি দখল হয়ে যায়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণই নয়, দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সমান মর্যাদায় এগিয়ে নেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাতে জাতি-গোত্রের বিভেদ দূর করে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসা যায়।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে অনেক কিছু নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও খাল খননের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ১০ জনের মাঝে বসতঘরের বরাদ্দপত্র, ৪৯ জনকে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেন। সব মিলিয়ে ৪১৮ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের সহায়তা প্রদান করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আপনার মতামত লিখুন