দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনেরই বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত তিনটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চারজন ও বক্তাবলী ইউনিয়নের একজন রয়েছেন। তারা হলেন-আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার মো. ফাহিম (২৮), একই গ্রামের আপন আহমেদ (২৩), নূর হোসেন (৫৫), তৈলখির চর এলাকার মো. ফয়সাল (২৬) এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার মো. শাহিন (৩৫)। নিহত অপর একজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবীবাজার এলাকার বাসিন্দা।
এই খবর নারায়ণগঞ্জে পৌঁছানোর পর শোকাতুর পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়ে গেছে। বিশেষ করে মো. ফাহিমের পরিবার বাকরুদ্ধ। স্বজনেরা জানান, মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিবারের হাল ধরতে ১০ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিম। তার উপার্জনেই দুই বোনের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট যমজ দুই ভাই জাহিদ ও নাহিদের পড়াশোনা চলছিল। দুই ভাই বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। আগামী জানুয়ারিতে ফাহিমের দেশে ফেরার কথা ছিল এবং তার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ডেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
আলীরটেক ইউনিয়নের সদস্য ও ওই সুপারশপের মালিক রওশন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ছয়জনই তার পরিচিত এবং একে অপরের আত্মীয়। সবাই ওই দোকানেই কাজ করতেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি।’
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানান, প্রবাসীদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন