প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে একটি ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ছাড়াও তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পৃথক এসব কর্মসূচিতে তিনি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ
দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে জাপানকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আড়াইহাজারের মতো আরও শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং এমআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর কর্মকর্তারা।
দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবনকারী গবেষকদের প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞ দল দুটি এই যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী এগুলোকে বাজারজাত ও ব্যবহারের উপযোগী করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করা গেলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে।’
সভায় জানানো হয়, উদ্ভাবিত হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব, যা বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা বা অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং বুয়েটের প্রো-ভিসি মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন ও বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে একটি ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ছাড়াও তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পৃথক এসব কর্মসূচিতে তিনি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ
দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে জাপানকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আড়াইহাজারের মতো আরও শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং এমআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি ও সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর কর্মকর্তারা।
দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এক সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবনকারী গবেষকদের প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞ দল দুটি এই যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী এগুলোকে বাজারজাত ও ব্যবহারের উপযোগী করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করা গেলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে।’
সভায় জানানো হয়, উদ্ভাবিত হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব, যা বিদ্যুৎ-সুবিধাবঞ্চিত এলাকা বা অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং বুয়েটের প্রো-ভিসি মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন ও বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন