সংবাদ

দেশের ৯৫ শতাংশ চিনিতে মিলল প্লাস্টিক কণা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

দেশের ৯৫ শতাংশ চিনিতে মিলল প্লাস্টিক কণা

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় সব ধরনের চিনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহীত চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।

‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড এবং খোলা–উভয় ধরনের চিনি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা কিছুটা বেশি। এসব কণার আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে তন্তু বা ফাইবার (৬৩ শতাংশ)। এ ছাড়া রয়েছে প্লাস্টিকের খণ্ড, পাতলা স্তর ও গোলাকার কণা।

গবেষকেরা জানান, চিনি উৎপাদন ও পরিশোধনের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এসব কণা চিনিতে মিশতে পারে। এমনকি প্যাকেজিং বা বাজারজাতকরণের সময় বাতাসের মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক চিনিতে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে চিনিতে পিভিসি, পিইটি, নাইলন ও এইচডিপিই-এর মতো বিভিন্ন পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, চিনি খাওয়ার মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন অবচেতনভাবেই কিছু পরিমাণ প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। যদিও বর্তমান মাত্রাটি তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি বিপজ্জনক নয়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


দেশের ৯৫ শতাংশ চিনিতে মিলল প্লাস্টিক কণা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় সব ধরনের চিনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহীত চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বিদ্যমান। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।

‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড এবং খোলা–উভয় ধরনের চিনি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা কিছুটা বেশি। এসব কণার আকার ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে তন্তু বা ফাইবার (৬৩ শতাংশ)। এ ছাড়া রয়েছে প্লাস্টিকের খণ্ড, পাতলা স্তর ও গোলাকার কণা।

গবেষকেরা জানান, চিনি উৎপাদন ও পরিশোধনের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এসব কণা চিনিতে মিশতে পারে। এমনকি প্যাকেজিং বা বাজারজাতকরণের সময় বাতাসের মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক চিনিতে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে চিনিতে পিভিসি, পিইটি, নাইলন ও এইচডিপিই-এর মতো বিভিন্ন পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, চিনি খাওয়ার মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন অবচেতনভাবেই কিছু পরিমাণ প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছেন। যদিও বর্তমান মাত্রাটি তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি বিপজ্জনক নয়, তবে দীর্ঘ মেয়াদে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত