সংবাদ

রংপুরে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা, জানে না ভোক্তা অধিদপ্তর!


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

রংপুরে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা, জানে না ভোক্তা অধিদপ্তর!
সাধারণ মানুষের সন্দেহ- কাচামরিচে আগুন, সরবরাহ সংকট, নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি?

সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত রংপুরে ভরা মৌসুমে কাঁচামরিচের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৭০ টাকা থেকে দাম লাফিয়ে বেড়ে পাইকারি বাজারে ৩শ টাকা। আর খুচরা বাজারে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকায় পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। অথচ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির খবর জানেন না ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজির মোকাম রংপুর নগরীর সিটি বাজার। এখান থেকে সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সেই সিটি বাজারেই কাঁচামরিচের দাম ৩ দিনের ব্যবধানে ৪ গুণ বেড়ে পাইকারি বাজারে ৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে তা সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ কমে যাওয়া ও বৃষ্টির কথা বললেও সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি আড়তে পর্যাপ্ত কাঁচামরিচ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের সন্দেহ- এটা কি সরবরাহ সংকট, নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি?

অতিরিক্ত দামে কাঁচামরিচ কেনা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেকে এক কেজির বদলে ১০০ গ্রাম বা এক পোয়া মরিচ নিয়েই ফিরছেন। শুধু কাঁচামরিচ নয়, আলু, পেঁপে, ঝিঙা, পটল, ঢ্যাঁড়সসহ সব ধরনের সবজির দামও দ্বিগুণ বেড়েছে।

সিটি বাজারের ক্রেতা মোশারফ হোসেন বলেন, '৩ দিন আগে ৭০-৮০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনেছি। হঠাৎ কী হলো, দাম ৪ গুণ বেড়ে গেল? এটা নিশ্চয়ই আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারসাজি।'

নিসবেতগঞ্জ থেকে বাজার করতে আসা জোসনা বেগম বলেন, 'এটা কোনো অরাজকতা। দাম বাড়িয়ে দিলেই হলো। আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার কীভাবে বাঁচবে? কাঁচামরিচ কিনতেই টাকা শেষ।'

লালমনিরহাট থেকে সবজি কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৩শ টাকায় কাঁচামরিচ কিনছি, পরিবহন খরচসহ কেজিপ্রতি সাড়ে ৩শ টাকা পড়বে। তাই ৪শ টাকার নিচে বিক্রি করলে আমাদের পোষাবে না।’

বাজারে কাঁচামরিচের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কিছুই জানেন না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচের ৪ গুণ দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তবে বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাধারণ মানুষ এখন কার্যকর বাজার মনিটরিং ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কমে কি না কাঁচামরিচের এই আগুনঝরা দাম।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


রংপুরে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা, জানে না ভোক্তা অধিদপ্তর!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত রংপুরে ভরা মৌসুমে কাঁচামরিচের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৭০ টাকা থেকে দাম লাফিয়ে বেড়ে পাইকারি বাজারে ৩শ টাকা। আর খুচরা বাজারে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকায় পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। অথচ এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির খবর জানেন না ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজির মোকাম রংপুর নগরীর সিটি বাজার। এখান থেকে সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সেই সিটি বাজারেই কাঁচামরিচের দাম ৩ দিনের ব্যবধানে ৪ গুণ বেড়ে পাইকারি বাজারে ৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে তা সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ কমে যাওয়া ও বৃষ্টির কথা বললেও সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি আড়তে পর্যাপ্ত কাঁচামরিচ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের সন্দেহ- এটা কি সরবরাহ সংকট, নাকি সিন্ডিকেটের কারসাজি?

অতিরিক্ত দামে কাঁচামরিচ কেনা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেকে এক কেজির বদলে ১০০ গ্রাম বা এক পোয়া মরিচ নিয়েই ফিরছেন। শুধু কাঁচামরিচ নয়, আলু, পেঁপে, ঝিঙা, পটল, ঢ্যাঁড়সসহ সব ধরনের সবজির দামও দ্বিগুণ বেড়েছে।

সিটি বাজারের ক্রেতা মোশারফ হোসেন বলেন, '৩ দিন আগে ৭০-৮০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনেছি। হঠাৎ কী হলো, দাম ৪ গুণ বেড়ে গেল? এটা নিশ্চয়ই আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারসাজি।'

নিসবেতগঞ্জ থেকে বাজার করতে আসা জোসনা বেগম বলেন, 'এটা কোনো অরাজকতা। দাম বাড়িয়ে দিলেই হলো। আমাদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার কীভাবে বাঁচবে? কাঁচামরিচ কিনতেই টাকা শেষ।'

লালমনিরহাট থেকে সবজি কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৩শ টাকায় কাঁচামরিচ কিনছি, পরিবহন খরচসহ কেজিপ্রতি সাড়ে ৩শ টাকা পড়বে। তাই ৪শ টাকার নিচে বিক্রি করলে আমাদের পোষাবে না।’

বাজারে কাঁচামরিচের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কিছুই জানেন না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচের ৪ গুণ দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তবে বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাধারণ মানুষ এখন কার্যকর বাজার মনিটরিং ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কমে কি না কাঁচামরিচের এই আগুনঝরা দাম।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত