জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রচণ্ড
দাবদাহের মধ্যে কুমামোতো প্রিফেকচারের একটি কাগজ কারখানা
ও একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপে
আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
পরিস্থিতির
গাম্ভীর্য তুলে ধরে জাপানের
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, "ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত
উদ্ধার করা এখন সময়ের
সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।" তিনি
জানান, ভূমিকম্পের ২০ ঘণ্টার বেশি
সময় পার হলেও এখনো
বহু মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং উদ্ধারকাজে ইতোমধ্যে
৪ হাজার ৬০০-এর বেশি
সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে
তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
পৌঁছানোয় উদ্ধারকর্মী ও দুর্গতদের হিটস্ট্রোক
থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী
শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, "ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩০০টি
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কুমামোতোতে পাঠানো হচ্ছে।"
সবচেয়ে
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাশিমার এইয়ন
শপিংমলে ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যে
বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভবনটির
দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা এক
সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই
ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে
দুঃখ প্রকাশ করছি।"
তিনি
জানান, চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, একজনকে বাথরুম থেকে জীবিত উদ্ধার
করা হয়েছে এবং এখনো তিনজন
নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইয়াতসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানায়
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ দুজনকে মৃত উদ্ধার করা
হয়েছে।
ভূমিকম্পের
সময় নিজ রেস্তোরাঁয় থাকা
ইয়াতসুশিরো শহরের ৭৫ বছর বয়সী
বাসিন্দা হিরোকো ওগাতা আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "হঠাৎ
প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয়। আমি
খুব ভয় পেয়েছিলাম। ৭৫
বছরের জীবনে এত বড় ভূমিকম্প
কখনো দেখিনি। মনে হয়েছিল আমি
আর বাঁচব না।"
মার্কিন
পর্যটক শ্যান্টেল মোহার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,
"হঠাৎ পুরো বাস কাঁপতে
শুরু করে। সবাই বিভ্রান্ত
হয়ে পড়েছিল। কী ঘটছে, কেউ
বুঝতে পারছিল না।"
জাপান
আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার
এই কম্পনের পর আগামী দুই
থেকে তিন দিনের মধ্যে
আরও শক্তিশালী আফটারশক হতে পারে। বাসিন্দাদের
সর্বোচ্চ মাত্রা ৭-এর কম্পনের
জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে
অঞ্চলের সড়ক, সেতু, রেল
যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রচণ্ড
দাবদাহের মধ্যে কুমামোতো প্রিফেকচারের একটি কাগজ কারখানা
ও একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপে
আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
পরিস্থিতির
গাম্ভীর্য তুলে ধরে জাপানের
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, "ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত
উদ্ধার করা এখন সময়ের
সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।" তিনি
জানান, ভূমিকম্পের ২০ ঘণ্টার বেশি
সময় পার হলেও এখনো
বহু মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং উদ্ধারকাজে ইতোমধ্যে
৪ হাজার ৬০০-এর বেশি
সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে
তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
পৌঁছানোয় উদ্ধারকর্মী ও দুর্গতদের হিটস্ট্রোক
থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী
শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, "ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যবহারের জন্য প্রায় ৩০০টি
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কুমামোতোতে পাঠানো হচ্ছে।"
সবচেয়ে
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাশিমার এইয়ন
শপিংমলে ভূমিকম্পের এক ঘণ্টার মধ্যে
বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভবনটির
দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা এক
সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই
ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে
দুঃখ প্রকাশ করছি।"
তিনি
জানান, চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, একজনকে বাথরুম থেকে জীবিত উদ্ধার
করা হয়েছে এবং এখনো তিনজন
নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইয়াতসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানায়
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ দুজনকে মৃত উদ্ধার করা
হয়েছে।
ভূমিকম্পের
সময় নিজ রেস্তোরাঁয় থাকা
ইয়াতসুশিরো শহরের ৭৫ বছর বয়সী
বাসিন্দা হিরোকো ওগাতা আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "হঠাৎ
প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয়। আমি
খুব ভয় পেয়েছিলাম। ৭৫
বছরের জীবনে এত বড় ভূমিকম্প
কখনো দেখিনি। মনে হয়েছিল আমি
আর বাঁচব না।"
মার্কিন
পর্যটক শ্যান্টেল মোহার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন,
"হঠাৎ পুরো বাস কাঁপতে
শুরু করে। সবাই বিভ্রান্ত
হয়ে পড়েছিল। কী ঘটছে, কেউ
বুঝতে পারছিল না।"
জাপান
আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার
এই কম্পনের পর আগামী দুই
থেকে তিন দিনের মধ্যে
আরও শক্তিশালী আফটারশক হতে পারে। বাসিন্দাদের
সর্বোচ্চ মাত্রা ৭-এর কম্পনের
জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে
অঞ্চলের সড়ক, সেতু, রেল
যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন