ফেনীতে সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সাতটি খালের কাজ শেষে প্রায় আট কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১২ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, সোনাগাজীর ডাঙ্গি খালের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যেখানে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফুলগাজীর তারালিয়া ও নোয়াপুরের গতিয়া খালের জন্য বরাদ্দ ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। পরশুরামে বক্সমাহমুদ ভেদা খালের ৩ কিলোমিটার খননে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এছাড়া ফেনী সদরের মোহাম্মদ আলী খাল ও দাউদপুর মধুয়াই খাল এবং দাগনভূঞার দুটি খালের কাজ শেষেও বড় অঙ্কের টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কাজগুলো বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় এবং নির্ধারিত মজুরিতে দিনমজুর না পাওয়ায় খননকাজে ‘এসকেভেটর’ বা খননযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে কাজের গতি বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বাবদ বরাদ্দ থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করায় সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন। বিশেষ করে কৃষির উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এই প্রকল্পগুলো মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
আপনার মতামত লিখুন