ঢাকার কেরাণীগঞ্জে কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রেমের টানাপোড়েন ও টাকার দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে তানজিলাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. রানা হাওলাদার (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। গ্রেপ্তার রানা পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন এবং লুট করা অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ২৭ জুলাই দুপুরে তানজিলা তার খালার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৮ জুলাই কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকার একটি ফাঁকা হাউজিং প্লট থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তানজিলার মা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রানাকে শনাক্ত করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা জানান, গত ৬-৭ মাস ধরে তানজিলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তানজিলা তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। রানা সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ২৭ জুলাই বিকেলে রানা তার অটোরিকশায় করে তানজিলাকে মদিনানগর এলাকায় নিয়ে যান এবং সেখানে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে ফোন ও অলংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ (পিপিএম) জানান, গ্রেপ্তার রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন