রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই বস্তু দুটিতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না- একটিতে ছিল পান-জর্দার কৌটা, অন্যটিতে পুরোনো জিনিসপত্র।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমাসদৃশ দুটি বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষায় ভেতরে কৌটাসদৃশ ইমেজ দেখা যায়। পরে এসওপি অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। ব্যাগ খুলে দেখা যায়, ভেতরে জর্দার কৌটা ও পান ছিল। ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত আরেকটি বস্তুতেও হ্যান্ড এন্ট্রি পরীক্ষায় কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে আইইডি বা পাইপ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। আনসার সদস্যদের সতর্কতায় ছাতার ভেতর মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে বিষয়টি শনাক্ত হয়।
সিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা জানান, ডিভাইসটির ভেতরে সালফারজাতীয় বিস্ফোরক, বেয়ারিং বল, তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো ছিল। ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে ছাতার বোতাম সংযুক্ত ছিল- কেউ ছাতা খুলতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পথচারী কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।
৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে রাখা পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর থেকে প্রেসারকুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডিএমপির বোমা ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে। কে বা কারা সেটি রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত এক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। মতিঝিলের আইইডি ঘটনাকে পুলিশ সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে অন্যান্য ঘটনায় ভুয়া তথ্য বা গুজবের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রবণতাও লক্ষ্য করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবুল বাশার বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে ধারণা করা হয়েছিল সেখানে বিস্ফোরকজাতীয় কিছু থাকতে পারে। পরে পরীক্ষায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, জনসমাগম এলাকায় পরিত্যক্ত বস্তু দেখে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে তা স্পর্শ না করে পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই বস্তু দুটিতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না- একটিতে ছিল পান-জর্দার কৌটা, অন্যটিতে পুরোনো জিনিসপত্র।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমাসদৃশ দুটি বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের সন্দেহজনক ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষায় ভেতরে কৌটাসদৃশ ইমেজ দেখা যায়। পরে এসওপি অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। ব্যাগ খুলে দেখা যায়, ভেতরে জর্দার কৌটা ও পান ছিল। ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত আরেকটি বস্তুতেও হ্যান্ড এন্ট্রি পরীক্ষায় কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে আইইডি বা পাইপ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার কথা ছিল। আনসার সদস্যদের সতর্কতায় ছাতার ভেতর মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে বিষয়টি শনাক্ত হয়।
সিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা জানান, ডিভাইসটির ভেতরে সালফারজাতীয় বিস্ফোরক, বেয়ারিং বল, তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো ছিল। ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে ছাতার বোতাম সংযুক্ত ছিল- কেউ ছাতা খুলতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পথচারী কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।
৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে রাখা পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতর থেকে প্রেসারকুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডিএমপির বোমা ডিসপোজাল ইউনিট সেটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে। কে বা কারা সেটি রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত এক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। মতিঝিলের আইইডি ঘটনাকে পুলিশ সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে অন্যান্য ঘটনায় ভুয়া তথ্য বা গুজবের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রবণতাও লক্ষ্য করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবুল বাশার বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে ধারণা করা হয়েছিল সেখানে বিস্ফোরকজাতীয় কিছু থাকতে পারে। পরে পরীক্ষায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, জনসমাগম এলাকায় পরিত্যক্ত বস্তু দেখে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে তা স্পর্শ না করে পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন