কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর ফাঁড়ি রঘুনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মোশাররফ মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, মমতাজ বেগম, লাভলী বেগম, লাকী বেগম ও মোখলেছ মিয়া। তাদের মধ্যে মোশাররফ ও সাদ্দামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাকিরা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর এলাকার আলকাছ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে তোতা মিয়ার পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২ আগস্ট সকালে তোতা মিয়ার পরিবার একটি নিচু জমিতে বালু ভরাট শেষে সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে আলকাছ মিয়ার লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলকাছ মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তোতা মিয়ার পরিবারের তিন নারীসহ ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করেন।
এ বিষয়ে আলকাছ মিয়ার পক্ষের কাউছার মিয়া বলেন, ‘জমিটি দীর্ঘদিন আমাদের দখলে। স্থানীয় নেতারা একাধিকবার সালিশ করলেও সমাধান হয়নি। প্রতিপক্ষ জমি দখল করে বেড়া দিতে গেলে আমরা বাধা দিই। পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’
অন্যদিকে তোতা মিয়ার পক্ষে আরমান মিয়া বলেন, ‘জমিটি আমাদের। বালু দিয়ে ভরাটের পর প্রতিপক্ষ মালিকানা দাবি করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা আমাদের পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে।’
রঘুনাথপুর এলাকার ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা একাধিকবার বসেছি, কিন্তু কোনো পক্ষই সিদ্ধান্ত মানেনি। রোববারের (২ আগস্ট) সংঘর্ষের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন