সংবাদ

দুই ইউনিয়ন পরিষদ চলছে ভাড়া ঘরে


প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

দুই ইউনিয়ন পরিষদ চলছে ভাড়া ঘরে
ভাড়া ঘরে চলছে সরকারি সেবা। ছবি : সংবাদ

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা ও জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ফলে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ভাড়া ঘর বা অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ২০০২ সালে খোকসা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ভেঙে ৯টি করা হয়। এর মধ্যে জানিপুর ইউনিয়ন ভেঙে শিমুলিয়া, জানিপুর ও বেতবাড়িয়া এবং খোকসা ইউনিয়ন ভেঙে খোকসা, ওসমানপুর, সোমপুর ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্য ইউনিয়নগুলোর ভবন নির্মিত হলেও খোকসা ও জানিপুর ইউনিয়নের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ঠিকানা হয়নি।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, খোকসা ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস। আর জানিপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা। জানিপুর ইউনিয়নের একতাপুর গ্রামের রফিক হাসান বলেন, "মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার ঘুরেও সঠিক সময়ে কাজ হয়নি। নিজস্ব ভবন না থাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের এক জায়গায় পাওয়া যায় না, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।"

খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদিক হোসেন জানান, স্থায়ী ভবনের অভাবে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদ গত অর্থবছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ট্যাক্স আদায় করলেও নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় কার্যক্রমের গতি ফিরছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. তাসমিন জাহান বলেন, জানিপুর ইউনিয়নের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে খোকসা ইউনিয়নের নিজস্ব জায়গা না থাকায় সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি। সাধারণ মানুষের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


দুই ইউনিয়ন পরিষদ চলছে ভাড়া ঘরে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা ও জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ফলে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ভাড়া ঘর বা অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় এই দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ২০০২ সালে খোকসা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ভেঙে ৯টি করা হয়। এর মধ্যে জানিপুর ইউনিয়ন ভেঙে শিমুলিয়া, জানিপুর ও বেতবাড়িয়া এবং খোকসা ইউনিয়ন ভেঙে খোকসা, ওসমানপুর, সোমপুর ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্য ইউনিয়নগুলোর ভবন নির্মিত হলেও খোকসা ও জানিপুর ইউনিয়নের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ঠিকানা হয়নি।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, খোকসা ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় আট হাজার মানুষের বসবাস। আর জানিপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা। জানিপুর ইউনিয়নের একতাপুর গ্রামের রফিক হাসান বলেন, "মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য একাধিকবার ঘুরেও সঠিক সময়ে কাজ হয়নি। নিজস্ব ভবন না থাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের এক জায়গায় পাওয়া যায় না, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।"

খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদিক হোসেন জানান, স্থায়ী ভবনের অভাবে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদ গত অর্থবছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ট্যাক্স আদায় করলেও নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় কার্যক্রমের গতি ফিরছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. তাসমিন জাহান বলেন, জানিপুর ইউনিয়নের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে খোকসা ইউনিয়নের নিজস্ব জায়গা না থাকায় সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি। সাধারণ মানুষের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত