সংবাদ

জোগান সংকটে অস্থির মরিচ বাজার


প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩০ এএম

জোগান সংকটে অস্থির মরিচ বাজার
ছবি : সংবাদ

টানা বৃষ্টিতে ফসলহানি ও জোগান কমে যাওয়ায় মানিকগঞ্জে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে জেলায় ২২২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক প্রাক্কলনে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়সহ সাতটি উপজেলায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক নিচু এলাকার মরিচ খেত পানিতে ডুবে গাছ পচে গেছে। বাজারে জোগান কম থাকায় গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ‘বিন্দু’ মরিচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ‘ছিট’ মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মরিচের পাশাপাশি বেগুন, পটল, আলু ও পেঁয়াজের দামও বেড়েছে, যা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বিপাকে ফেলেছে।

ঘিওর হাটে আসা পাইকাররা জানান, গত সপ্তাহে যে মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় কেনা গেছে, সরবরাহ সংকটে তা এখন ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শিবালয়ের বরংগাইল এলাকার আড়তদার নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচ নেই বললেই চলে। আমদানি না বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।

অবশ্য দাম বেশি হওয়ায় যেসব কৃষকের খেত ভালো আছে, তারা লাভবান হচ্ছেন। ঘিওরের চড়বায়জুরি গ্রামের চাষি আজগর আলী বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও এবার ৪ বিঘা করেছেন। ফলন কম হলেও বর্তমান বাজারদরে তিনি খুশি। একই এলাকার জুলহাস, বাবুল ও দুখু মিয়ারা জানান, এবার মরিচ বিক্রি করে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো টাকা পাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে চাষিরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জোগান সংকটে অস্থির মরিচ বাজার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টিতে ফসলহানি ও জোগান কমে যাওয়ায় মানিকগঞ্জে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে জেলায় ২২২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক প্রাক্কলনে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়সহ সাতটি উপজেলায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক নিচু এলাকার মরিচ খেত পানিতে ডুবে গাছ পচে গেছে। বাজারে জোগান কম থাকায় গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ‘বিন্দু’ মরিচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ‘ছিট’ মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মরিচের পাশাপাশি বেগুন, পটল, আলু ও পেঁয়াজের দামও বেড়েছে, যা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বিপাকে ফেলেছে।

ঘিওর হাটে আসা পাইকাররা জানান, গত সপ্তাহে যে মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় কেনা গেছে, সরবরাহ সংকটে তা এখন ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শিবালয়ের বরংগাইল এলাকার আড়তদার নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচ নেই বললেই চলে। আমদানি না বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।

অবশ্য দাম বেশি হওয়ায় যেসব কৃষকের খেত ভালো আছে, তারা লাভবান হচ্ছেন। ঘিওরের চড়বায়জুরি গ্রামের চাষি আজগর আলী বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও এবার ৪ বিঘা করেছেন। ফলন কম হলেও বর্তমান বাজারদরে তিনি খুশি। একই এলাকার জুলহাস, বাবুল ও দুখু মিয়ারা জানান, এবার মরিচ বিক্রি করে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো টাকা পাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে চাষিরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত