উচ্চতর শিক্ষা শেষ করে চাকরির পেছনে ছোটেননি তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতি আর অভাবকে জয় করে নিজেই হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা। মাত্র ৬০০ টাকা আর একটি পুরনো ল্যাপটপ সম্বল করে আজ এক সফল ব্যবসায়ীর নাম মহাসিন হোসেন হৃদয়। যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ভবেরবেড় গ্রামের এই তরুণ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা।
মহাসিনের সংগ্রামের শুরুটা ২০১৪ সালে। অভাবের সংসারে অনেক কষ্টে পরিবার তাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দেয়। সেখান থেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের হাতেখড়ি। পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত হন ‘আমরা বেনাপোলের বাসিন্দা’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে। শিশুদের ছবি আঁকা শেখাতে গড়ে তোলেন ‘চারুবর্ণ আর্ট সেন্টার’ এবং পাঠকদের জন্য ‘স্বাধীন গণ পাঠাগার’। কিন্তু ২০২০ সালের করোনা মহামারীতে থমকে যায় সবকিছু। অর্থাভাবে পাঠাগার ও সংগঠনের অফিসটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।
সব হারিয়েও দমে যাননি মহাসিন। টিকে থাকার লড়াইয়ে মাত্র তিন হাজার টাকা বেতনে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন এবং সরকারি প্রজেক্টের অধীনে গ্রাফিক্স ও ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ের কোর্স করেন।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বেনাপোল বাজারের রেলরোড এলাকায় একটি ছোট দোকান ভাড়া নেন। কিন্তু দোকানের জামানত দিতেই সব জমানো টাকা শেষ হয়ে যায়। দোকান চালুর সময় ক্যাশে ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। বাসা থেকে নিজের পড়ার টেবিল, একটি চেয়ার আর ২০১৪ সালে কেনা সেই পুরনো ল্যাপটপটি নিয়ে যাত্রা শুরু করে তার প্রতিষ্ঠান ‘বর্ণ প্রিন্টিং’।
সততা আর মেধার জোরে সেই ৬০০ টাকার প্রতিষ্ঠান আজ কয়েক লাখ টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছে। ল্যাপটপের জায়গায় এসেছে শক্তিশালী পিসি। যুক্ত হয়েছে উন্নত মানের কালার প্রিন্টার, সিল তৈরির মেশিন এবং ক্রেস্ট ও মগ প্রিন্টিংয়ের আধুনিক সরঞ্জাম। প্রিন্টিংয়ের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজও করেন তিনি। নিখুঁত কাজ আর ব্যবহারের কারণে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে তার সুনাম।
নিজের পথচলা নিয়ে মহাসিন হোসেন হৃদয় বলেন, “ঘর সাজানোর আসবাবপত্র কেনার টাকা ছিল না। মা-বাবার দেওয়া সেই ল্যাপটপটিই ছিল একমাত্র ভরসা। আজ আলহামদুলিল্লাহ, হালাল পরিশ্রমে পুঁজি বেড়েছে। সব সরঞ্জাম এখনো কিনতে পারিনি, তবে বিশ্বাস করি একদিন পূর্ণতা পাবে।”
হতাশাগ্রস্ত তরুণদের উদ্দেশে মহাসিন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে সামান্য সম্পদ আর মেধা কাজে লাগাতে পারলে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারে। মহাসিনের এই জয়যাত্রা আজ বেনাপোলের তরুণ সমাজের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আপনার মতামত লিখুন