জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। বিচারে অপরাধীদের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও সদিচ্ছা নিয়ে।
শনিবার
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব
নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট
ভবনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের
ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায়
এসব কথা বলেন তিনি।
বিচারে
অপ্রতুল শাস্তির চিত্র তুলে ধরে মীর
স্নিগ্ধ বলেন, "যেই পুলিশ সদস্য
শহীদ আনাসকে গুলি করেছে, তাকে
নামমাত্র তিন বছরের সাজা
দেওয়া হয়। তৎকালীন আইজিপি
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই
পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ
করার জন্য, তাকে নামমাত্র পাঁচ
বছরের সাজা দেওয়া হয়।
সেটি নিয়ে সবাই চুপ
থাকে।"
বিপ্লবের
মূল চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের
নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার
প্রবণতার সমালোচনা করে স্নিগ্ধ বলেন,
"পার্লামেন্টে কোনো এক তরুণ
সদস্য দাঁড়িয়ে বলছেন, জেন-জি’রা অমুক
জিনিস চায় না। আমার
প্রশ্ন, কোন জাতীয় সম্মেলনে,
কোন গণভোটের মাধ্যমে সেই তরুণ সদস্যকে
জেন-জি’দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?"
নিজের
অবস্থান চাপিয়ে দেওয়াকে স্বৈরাচারী মনোভাব উল্লেখ করে তিনি আরও
যোগ করেন, "এভাবে জেন-জি’দের কথা
বলে, একটা জেনারেশনের কথা
বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে চাপিয়ে দেওয়া, এটিতো আরেকটি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।"
শহীদের
রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী
রাজনৈতিক চর্চার পুনরাবৃত্তি বন্ধের আহ্বান জানান স্নিগ্ধ। বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের সংস্কৃতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ
প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের
যারা সিনিয়র রাজনীতিবিদ রয়েছেন যাদেরকে মানুষ ভালোবাসে, সম্মান করে এবং ভোট
দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায়
যে যা ইচ্ছা তাই
দিয়ে মন্তব্য করছেন, মুখে যা আসছে
তাই বলছেন। এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি তো আমরা ফ্যাসিস্ট
সরকারের, ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখে দেখতে পেতাম।
আমরা তো এ রকম সংস্কৃতি
চাইনি।"
শহীদদের
স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ
হওয়ার আকুতি জানান মীর স্নিগ্ধ। এই
দায়িত্ব শুধু সরকারের একক
নয় মনে করিয়ে দিয়ে
তিনি বলেন, "এই দায়িত্ব তো
দিনশেষে আমার, আপনার, সরকারি দল, বিরোধী দল
এ দেশের সব জনগণের সম্মিলিত
দায়িত্ব।"
শহীদদের
প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে
দিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে
বলেন, "শহীদরা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন।
শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ
মীর মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম-
তারা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন।"
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এই আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি
এম ওবায়দুল ইসলাম।

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। বিচারে অপরাধীদের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও সদিচ্ছা নিয়ে।
শনিবার
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব
নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট
ভবনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের
ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায়
এসব কথা বলেন তিনি।
বিচারে
অপ্রতুল শাস্তির চিত্র তুলে ধরে মীর
স্নিগ্ধ বলেন, "যেই পুলিশ সদস্য
শহীদ আনাসকে গুলি করেছে, তাকে
নামমাত্র তিন বছরের সাজা
দেওয়া হয়। তৎকালীন আইজিপি
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই
পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ
করার জন্য, তাকে নামমাত্র পাঁচ
বছরের সাজা দেওয়া হয়।
সেটি নিয়ে সবাই চুপ
থাকে।"
বিপ্লবের
মূল চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের
নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার
প্রবণতার সমালোচনা করে স্নিগ্ধ বলেন,
"পার্লামেন্টে কোনো এক তরুণ
সদস্য দাঁড়িয়ে বলছেন, জেন-জি’রা অমুক
জিনিস চায় না। আমার
প্রশ্ন, কোন জাতীয় সম্মেলনে,
কোন গণভোটের মাধ্যমে সেই তরুণ সদস্যকে
জেন-জি’দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?"
নিজের
অবস্থান চাপিয়ে দেওয়াকে স্বৈরাচারী মনোভাব উল্লেখ করে তিনি আরও
যোগ করেন, "এভাবে জেন-জি’দের কথা
বলে, একটা জেনারেশনের কথা
বলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে চাপিয়ে দেওয়া, এটিতো আরেকটি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ।"
শহীদের
রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী
রাজনৈতিক চর্চার পুনরাবৃত্তি বন্ধের আহ্বান জানান স্নিগ্ধ। বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের সংস্কৃতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ
প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের
যারা সিনিয়র রাজনীতিবিদ রয়েছেন যাদেরকে মানুষ ভালোবাসে, সম্মান করে এবং ভোট
দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায়
যে যা ইচ্ছা তাই
দিয়ে মন্তব্য করছেন, মুখে যা আসছে
তাই বলছেন। এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি তো আমরা ফ্যাসিস্ট
সরকারের, ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখে দেখতে পেতাম।
আমরা তো এ রকম সংস্কৃতি
চাইনি।"
শহীদদের
স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ
হওয়ার আকুতি জানান মীর স্নিগ্ধ। এই
দায়িত্ব শুধু সরকারের একক
নয় মনে করিয়ে দিয়ে
তিনি বলেন, "এই দায়িত্ব তো
দিনশেষে আমার, আপনার, সরকারি দল, বিরোধী দল
এ দেশের সব জনগণের সম্মিলিত
দায়িত্ব।"
শহীদদের
প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে
দিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে
বলেন, "শহীদরা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন।
শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ
মীর মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম-
তারা কিন্তু আমাদেরকে উপর থেকে দেখছেন।"
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এই আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি
এম ওবায়দুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন