সংবাদ

বটতলার ছায়ায় গড়ে ওঠা জহর লালের পাঠশালা


প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

বটতলার ছায়ায় গড়ে ওঠা জহর লালের পাঠশালা
শিশুদের পাঠদান করছেন জহরলাল সরকার। ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামে একটি বটগাছের নিচে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা। বলেশ্বর নদের তীরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে এখানে বিনা মূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষানুরাগী জহর লাল সরকার।

বটতলায় ছোট একটি টিনের ছাউনির নিচে নিয়মিত ৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে পরম মমতায় পাঠদান করেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক কেবল পড়ানই না, বরং নিজ খরচে শিশুদের হাতে খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও তুলে দেন।

স্থানীয়রা জানান, রানাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই অসচ্ছল। এলাকায় কাছাকাছি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছোট শিশুদের অনেক দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হতো। বিশেষ করে রোদ-বৃষ্টির দিনে দূরের স্কুলে যাওয়া তাদের জন্য ছিল বেশ কষ্টকর। শিশুদের এই দুর্ভোগ লাঘবে ২০২৩ সালে এই পাঠশালার সূচনা করেন জহর লাল সরকার।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২২ সালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসরে যান। তার বাবা প্রয়াত জতীন্দ্র নাথ সরকারও এলাকায় শিক্ষা প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। বাবার সেই মহতী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় স্থানীয় সুধী সমাজ জহর লাল সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তবে এই ব্যতিক্রমী পাঠশালাটি বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন। ছোট টিনের ছাউনিটি বর্ষায় চুইয়ে পানি পড়ে, ফলে বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ করে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয়। পাশাপাশি বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কোমলমতি শিশুদের পাঠশালায় আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জহর লাল সরকার বলেন, ‘আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাদের পাশে থাকতে চাই।’ বটতলার এই আলোকিত উদ্যোগটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং স্থায়ী রূপ দিতে তিনি সরকার, সমাজের বিত্তবান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


বটতলার ছায়ায় গড়ে ওঠা জহর লালের পাঠশালা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামে একটি বটগাছের নিচে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা। বলেশ্বর নদের তীরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে এখানে বিনা মূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষানুরাগী জহর লাল সরকার।

বটতলায় ছোট একটি টিনের ছাউনির নিচে নিয়মিত ৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে পরম মমতায় পাঠদান করেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক কেবল পড়ানই না, বরং নিজ খরচে শিশুদের হাতে খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও তুলে দেন।

স্থানীয়রা জানান, রানাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই অসচ্ছল। এলাকায় কাছাকাছি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছোট শিশুদের অনেক দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হতো। বিশেষ করে রোদ-বৃষ্টির দিনে দূরের স্কুলে যাওয়া তাদের জন্য ছিল বেশ কষ্টকর। শিশুদের এই দুর্ভোগ লাঘবে ২০২৩ সালে এই পাঠশালার সূচনা করেন জহর লাল সরকার।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২২ সালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসরে যান। তার বাবা প্রয়াত জতীন্দ্র নাথ সরকারও এলাকায় শিক্ষা প্রসারে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। বাবার সেই মহতী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় স্থানীয় সুধী সমাজ জহর লাল সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তবে এই ব্যতিক্রমী পাঠশালাটি বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন। ছোট টিনের ছাউনিটি বর্ষায় চুইয়ে পানি পড়ে, ফলে বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ করে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয়। পাশাপাশি বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কোমলমতি শিশুদের পাঠশালায় আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে জহর লাল সরকার বলেন, ‘আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাদের পাশে থাকতে চাই।’ বটতলার এই আলোকিত উদ্যোগটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং স্থায়ী রূপ দিতে তিনি সরকার, সমাজের বিত্তবান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত